বাংলাহান্ট ডেস্ক: এক মাসের ওপর হয়ে গেল ইরান-আমেরিকা সংঘাতের। তবে এখনও এর কোনও সুরাহা মেলেনি। যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ খানিকটা কমাতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। রবিবার কেন্দ্রের তরফে কেরোসিন (Kerosene) সরবরাহে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোনওভাবেই জ্বালানির ঘাটতি না দেখা দেয়।
কেন্দ্রের তরফে কেরোসিন (Kerosene) সরবরাহ নিয়ে নির্দেশিকা জারি:
সরকারি ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রান্না ও আলো জ্বালানোর জন্য দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিন সরবরাহ জোরদার করা হবে। বিশেষ করে, পাবলিক সেক্টরের তেল সংস্থাগুলিকে এবার খুচরো বা রিটেল চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি কেরোসিন বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পেই কেরোসিন পাওয়া যাবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
আরও পড়ুন: কেন ঢুকছে না ১৫০০ টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় কারণ ফাঁস করলেন মমতা, জানালেন সমাধানও
এর পাশাপাশি, কেরোসিন বিতরণের ক্ষেত্রে লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়মেও বড়সড় শিথিলতা আনা হয়েছে। এজেন্ট বা ডিলারদের আর আলাদা করে ফর্ম ১৮ লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু তাই নয়, কেরোসিন পরিবহনের ক্ষেত্রেও ট্যাঙ্কারগুলিকে অতিরিক্ত লাইসেন্স থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে জ্বালানি বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে পেটট্রোলিয়াম অ্যাক্ট ১৯৩৪ এবং ২০০২ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীনে এই ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে না।

আরও পড়ুন: ভ্রমণে বাড়তি সুবিধা! উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ৩৫টি ট্রেনের গতি বাড়ানোয় স্বস্তি পাবেন যাত্রীরা
তবে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই কেরোসিন (Kerosene) শুধুমাত্র গৃহস্থালির প্রয়োজন, যেমন রান্না ও আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি রিটেল স্টেশনে সর্বোচ্চ ২৫০০ লিটার কেরোসিন মজুত রাখা যাবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিকে কঠোরভাবে কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপব্যবহার বা কালোবাজারি রোধ করা যায়।













