ভোল পাল্টাবে ভারতীয় সিনেমার! স্ক্রিনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কাজে লাগানো হবে AI, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আপনার সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে  আরও রোমাঞ্চকর করতে দারুণ উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্র। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে (Film Industry) আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। সিনেমা হলের সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial intelligence) এবং ভার্চুয়াল প্রোডাকশনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলার মতো একাধিক বিষয়ে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের (Ashwini Vaishnaw) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়। কেন্দ্রের মতে, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতেই এই উদ্যোগ।

চলচ্চিত্র শিল্পকে (Film Industry) আরও আধুনিক করে তুলতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের:

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলচ্চিত্র শিল্পের (Film Industry) ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের স্টাডি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিশিষ্ট গীতিকার এবং কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের (সেন্সর বোর্ড) চেয়ারম্যান প্রসূন জোশীকে। কমিটিতে চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই স্টাডি গ্রুপের মূল দায়িত্ব হবে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সুযোগ, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জগুলি বিশ্লেষণ করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সিনেমার উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে সম্পর্কেও কেন্দ্রকে সুপারিশ করবে এই কমিটি। বিভিন্ন রাজ্য সরকার, প্রযোজক, পরিবেশক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেই একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

আরও পড়ুন: বারংবার ব্যর্থ হয়েছেন NEET-এ! কেরিয়ার বদলে নামী সংস্থার ডেটা সায়েন্টিস্ট হয়ে নজির গড়লেন সঞ্জয়

এই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চলচ্চিত্র নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন, উন্নত ভিএফএক্স এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণকে আরও দক্ষ, সাশ্রয়ী এবং আন্তর্জাতিক মানের করা যায়, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে স্টাডি গ্রুপ। পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনার জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নির্মাতাদের অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলির সমাধানের পথও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। সরকারের বিশ্বাস, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে শুধু বড় বাজেটের সিনেমাই নয়, আঞ্চলিক চলচ্চিত্র শিল্পও নতুন সুযোগ পাবে এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের জায়গা আরও শক্তিশালী করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নজর রয়েছে সিনেমা হলের সংখ্যাও বাড়ানোর দিকে। বর্তমানে সিনেমা হল এবং থিয়েটারের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত রাজ্য সরকারের হাতে। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ম ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া আলাদা হওয়ায় বিশেষ করে ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকায় নতুন সিনেমা হল নির্মাণে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যা দূর করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক একটি ‘মডেল স্টেট সিনেমা রেগুলেশনস’ তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই সেই খসড়া দেশের সব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তা কার্যকর করার জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে এই নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলিকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে কেন্দ্র।

Centre takes major step to modernize the film industry.

আরও পড়ুন: অরুণাচলের জমি অবৈধভাবে দখল করছে চিন? তদন্ত শুরু করছে সরকার, কী জানাল ভারতীয় সেনা?

স্টাডি গ্রুপকে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সুপারিশ-সহ একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রের আশা, সিনেমা হলের সংখ্যা বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, সহজ বিনিয়োগের পরিবেশ এবং সুসংহত নীতিগত কাঠামোর মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প (Film Industry) আরও গতিশীল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বলিউডের পাশাপাশি আঞ্চলিক চলচ্চিত্র শিল্পও নতুন গতি পাবে এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।