বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাংলা। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বিজেপির সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে। সেই সময়েই মধ্যমগ্রামের কাছে প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে (Chandranath Rath)। স্বাভাবিক ভাবে এই হামলার নৃশংসতায় শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।
চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের স্মরণসভায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়িতে গেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চন্দ্রনাথ রথের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন শুভেন্দু। শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের মাত্র কয়েকদিন আগেই তার আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুন হয়। অল্প দিনের মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী দল। জানা যায়, দুই ভিন্ন রাজ্য থেকে ধরা হয়েছে অভিযুক্তদের।
এদিন, মুখ্যমন্ত্রীর আগমনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন চন্দ্রনাথের মা। তিনি বলেন, ‘উনি যে আমাদের বাড়ি এসেছেন, এ আমার পরম সৌভাগ্য। অনেকে পদ পাওয়ার পরে ভুলে যান, কিন্তু উনি আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন। ছেলেকে মনে রেখে আমার বাড়ি পর্যন্ত এসেছেন, উনিও কান্নাকাটি করছেন। উনি বলেছেন, আমাদের পরিবারের পাশে সবসময়ের জন্য রয়েছেন। উনি ও বলেছেন, উনি দোষীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি চাইছেন।’
চন্দ্রনাথের মা আরও বলেন, “উনি (শুভেন্দু অধিকারী) বলছেন, ‘আমি নিরাপত্তা নিতে বলেছিলাম। নিজের প্রতি অবহেলা করেই হয়তো নেয়নি।’ তবে উনিও কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি চাইছেন। আমাদের ওঁর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। উনি যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী, নিশ্চয়ই উনি এর বিচার করবেন। আমরা বিচার চাইছি। ভবানীপুরের হারটা হয়তো মাননীয়া মেনে নিতে পারেননি, তার জন্য ও হতে পারে। যাঁরা আমার ছেলের জীবনটা নিয়ে নিয়েছে, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হোক।”

আরও পড়ুন : মিলবে কড়কড়ে ৬,০০০ টাকা! রাজ্যে চালু হল কেন্দ্রের মেগা প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?
জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথের মা, ভাই এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয় বিভিন্ন মহল। এখনও এই ঘটনার নেপথ্যের আসল চক্রান্ত সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যবাসী।













