বাংলা হান্ট ডেস্ক : একদিকে বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলা, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্যকে ঘিরে তদন্ত। এই দুই মামলার সূত্র ধরেই এবার কালীঘাটে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির খোঁজে পৌঁছল সিআইডি। তিনি অদিতি গায়েন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির খুব কাছেই তাঁর বাসস্থান। ফলে তদন্তকারীদের এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
অদিতির সঙ্গে কী সম্পর্ক অভিষেকের (Abhishek Banerjee)?
কালীঘাটের ২৯ডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা অদিতি গায়েন দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজিটাল টিমের সঙ্গে যুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন কর্মসূচির প্রচার এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জনসংযোগমূলক কার্যকলাপ পরিচালনার দায়িত্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক প্রচারের ডিজিটাল কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডি। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, ওই বিতর্কিত মন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রচারের নানা অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
একইসঙ্গে বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলার তদন্তও এগোচ্ছে। সেই দুই তদন্তের সূত্র মিলিয়েই অদিতি গায়েনের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে তাঁর বাড়িতে যান CID আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, একটি বড় তদন্তকারী দল সেখানে পৌঁছেছিল। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অদিতির সঙ্গে কথা বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্ট, প্রচারসামগ্রী এবং সেগুলির পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চান তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন :রাজ্য সরকারি কর্মীদের পোয়া বারো, DA বৃদ্ধি পাচ্ছে বাজেটে!
শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই নয়, শাসকদলের প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে অদিতি গায়েনের পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে। তাঁর মা রীনা গায়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোন। সেই হিসেবে অদিতি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোনঝি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিসতুতো বোন। এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত লিওনেল মেসিকে ঘিরে অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি আলোচনায় এসেছিল। তদন্তের স্বার্থে সিআইডির এই পদক্ষেপ এখন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

















