জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ‘রহিন পরব’-এর শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী! অবাক করবে এই উৎসবের বিশেষত্ব

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari greets everyone on the traditional 'Rohin Porob' of Jangalmahal.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে আজ ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার গ্রামবাংলা জুড়ে পালিত হচ্ছে বহু প্রাচীন কৃষিভিত্তিক লোকউৎসব ‘রহিন পরব'(Rohin Porob)। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব আদিবাসী ও কুড়মি সমাজের সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদিন রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জঙ্গলমহল-সহ সমগ্র বাংলার মানুষের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।

‘রহিন পরব’-এ(Rohin Porob) রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর:

পরবের বিশেষ দিনে কৃষিজীবী মানুষেরা মাটি ও বীজকে দেবতাস্বরূপ মেনে প্রণাম করেন। শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর বার্তায় কৃষকদের উন্নতি এবং ভালো ফলনের কামনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছার পর থেকেই জঙ্গলমহলের গ্রামাঞ্চলে যেন উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। লাল মাটির পথে পথে বেজে উঠেছে মাদল, ভেসে আসছে ঝুমুর গানের সুর। দীর্ঘ খরার পর নতুন আশার আলো খুঁজছেন গ্রামের মানুষ।

রহিন পরব মূলত কৃষিকাজের সূচনাকে কেন্দ্র করেই পালিত হয়। বর্ষা আসার আগে এই সময়টিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাই এদিন জমিতে প্রথম ধানের বীজ ছড়ানোর রীতি রয়েছে। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয় ‘বীজপূণ্যা’। বিশ্বাস করা হয়, এই শুভক্ষণে বপন করা বীজ ভবিষ্যতে ভালো ফলনের পথ খুলে দেয়। প্রকৃতির আশীর্বাদে মাঠ ভরে ওঠে সোনালি শস্যে।

এই লোকউৎসবকে ঘিরে রয়েছে নানা আচার ও সামাজিক প্রথা। গ্রামের মানুষ বিশেষভাবে ‘রহিন মাটি’ সংগ্রহ করেন। সেই মাটি দিয়ে বাড়ির উঠোন লেপে শুভ কাজের সূচনা করা হয়। মহিলারা ঘরদোর পরিষ্কার করে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলেন। আদিবাসী ও কুড়মি সম্প্রদায়ের পরিবারগুলি এদিন বিশেষ ফল ও খাদ্য গ্রহণ করে বছরের প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেন। পাশাপাশি পূর্বপুরুষ ও প্রকৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয় প্রার্থনা ও নৈবেদ্য।

CM Suvendu Adhikari greets everyone on the traditional 'Rohin Porob' of Jangalmahal.

আরও পড়ুন : আনতে হল টাকা গোনার মেশিন! বাদুড়িয়ার পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার কত কোটি?

সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রা বদলালেও জঙ্গলমহলের মানুষ এখনও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন নিজেদের শিকড়। রহিন পরব শুধু কৃষির উৎসব নয়, এটি মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির অটুট সম্পর্কের প্রতীক। আধুনিকতার ভিড়েও এই লোকসংস্কৃতি আজও স্মরণ করিয়ে দেয়— বাংলার আসল প্রাণ লুকিয়ে আছে গ্রামের মাটির গন্ধে।