বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Sofiya Qureshi SEO) রাষ্ট্রপতির বিশিষ্ট সেবা পদকে সম্মানিত হচ্ছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই দক্ষ আধিকারিক তার দায়িত্ব পালনে অসাধারণ নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান পেতে চলেছেন। এই নির্বাচনকে সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদক পাচ্ছেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Sofiya Qureshi)
কর্নেল সোফিয়া কুরেশি গত বছর ‘সিঁদুর অভিযান’ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সাংবাদিক বৈঠকে দেশবাসীর সামনে ভারতের প্রত্যাঘাতের কৌশলগত বিবরণ তুলে ধরেছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ভারতীয় সেনার সফল অভিযানের প্রতিটি ধাপ তিনি স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। কীভাবে ও কেন সেই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই বৈঠকে ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহও উপস্থিত ছিলেন, যা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নারী অফিসারদের যৌথ নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
সেনা সূত্রগুলি জানিয়েছে, ওই সাংবাদিক বৈঠক কেবল একটি সামরিক সাফল্যের তথ্যপ্রকাশ নয়, বরং পুরুষশাসিত বলে পরিচিত প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নারীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের এক মাইলফলক ছিল। আন্তর্জাতিক মহলেও কর্নেল সোফিয়ার এই ভূমিকা প্রশংসা পেয়েছিল। তাঁকে ওই দায়িত্ব দেওয়ার পিছনে সেনাবাহিনীর উচ্চতম পর্যায়ের আস্থা ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসই প্রতিফলিত হয়েছিল।
কর্নেল সোফিয়া কুরেশির জন্ম ১৯৭৪ সালে গুজরাতের বড়োদরায়। তিনি ১৯৯৭ সালে জৈব রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনার সিগন্যাল কোরের একজন শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে সামরিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সংক্রান্ত গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক সংবেদনশীল অভিযানে তাঁর ভূমিকা এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে তাঁর অবদানকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা পাবে বন্দেমাতরম! বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র
তাঁর জাতীয় পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে, যখন তিনি পুণেতে আয়োজিত একটি বিশাল বহুজাতিক সামরিক মহড়ার নেতৃত্ব দেন। সেই সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে থাকা সোফিয়া ১৮টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই মহড়ায় নেতৃত্বদানকারী প্রথম মহিলা অফিসারের মর্যাদা লাভ করেন। জাপান, চিন, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো দেশগুলির সেনা অংশ নেওয়া ওই মহড়ায় তাঁর নেতৃত্ব ছিল ঐতিহাসিক। রাষ্ট্রপতির বিশিষ্ট সেবা পদকে সম্মানিত হওয়া কর্নেল সোফিয়া কুরেশির সেই গৌরবময় ও অনুকরণীয় পথচলারই আরেকটি সম্মানজনক স্বীকৃতি।












