বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, এই যুদ্ধবিরতির সুযোগকেই সঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় (India) কোম্পানিগুলি। মূলত, কোম্পানিগুলি রফতানি পুনরায় শুরু করছে এবং কারখানাগুলিতে পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলি রিবিল্ডিংয়ের প্রত্যাশা করায় কোম্পানিগুলি অর্ডার বৃদ্ধির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রভাবিত দেশগুলি তাদের ওষুধের মজুত পুনরায় পূরণ করতে চাওয়ায় ওষুধ কোম্পানিগুলি রফতানি চাহিদা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হতেই স্বস্তিতে ভারতীয় (India) কোম্পানিগুলি!
এছাড়াও, প্যাকেটজাত খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে সরবরাহ এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ET-র একটি রিপোর্ট অনুসারে, এয়ার কন্ডিশনার থেকে শুরু করে রেফ্রিজারেটর, তার ও কেবলের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিও অতিরিক্ত অর্ডারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানিয়ে রাখি যে, গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায় ৪০-৫০ শতাংশের পতন ঘটেছে। এমতাবস্থায়, হ্যাভেলস ইন্ডিয়ার আধিকারিক অনিল রাই গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রভাবিত অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের দৃঢ় সম্পর্ক এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পুনরুৎপাদনের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারত দখল করতে পারে। ওই কোম্পানিটি তার রফতানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এই সেক্টর থেকে অর্জন করে এবং কেবল ও তারের সেক্টরে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে।

কত বাড়বে রফতানি: জানিয়ে রাখি যে, ভারতের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বৃহত্তম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এডব্লিউএল এগ্রি বিজনেস দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে পণ্য পাঠানো পুনরায় শুরু করবে। যার মাধ্যমে ওই অঞ্চলজুড়ে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হবে। ET-র রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে যে, কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অংশু মালিক বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে ডিস্ট্রিবিউটাররা বাড়তি খরচ বহন করতেও ইচ্ছুক। তিনি আরও বলেন, ডিস্ট্রিবিউটাররা আশা করছেন প্রতি মাসে পণ্যের পরিমাণ আবার বেড়ে ৪,০০০-৫,০০০ টন হবে। উল্লেখ্য যে, যুদ্ধ চলাকালীন কোম্পানিটি ওমানের মাধ্যমে পণ্য পাঠাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: বাবার স্বপ্নপূরণ করতে হন ক্রিকেটার! KKR-এর বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো মুকুলের লড়াই চমকে দেবে
তবে, গত বুধবার ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সংঘাত থামিয়ে দিলেও, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে রয়েছে। ফলস্বরূপ, প্রধান জাহাজ কোম্পানিগুলি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের জাহাজ পাঠানোর আগে বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে, পার্লে প্রোডাক্টস এবং ডাবর ইন্ডিয়ার মতো কোম্পানিগুলির ওই অঞ্চলে স্থানীয় কারখানা রয়েছে। যেগুলি এখন পূর্ণক্ষমতায় কাজ শুরু করছে। পার্লে প্রোডাক্টসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়াঙ্ক শাহ জানিয়েছেন যে, বাহরিনে তাদের কারখানাটি গত মাসে ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষমতায় চলছিল কিন্তু, এখন পূর্ণ ক্ষমতায় পুনরায় চালু হবে। এদিকে, উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার কারণে বর্ধিত চাহিদা মেটাতে এসি প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্লু স্টারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়শিপে ঐতিহাসিক পরিবর্তন করছেন জয় শাহ! এবার ‘এন্ট্রি’ নেবে এই ৩ টি দল
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি লাভবান হচ্ছে: শিপিং পথ পুনরায় খুলে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেক রফতানিকারী তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে পুনরায় কাজ শুরু করেছেন। অনুমান করা হচ্ছে, প্রণালীটি পুনরায় খুলে যাওয়ায় পণ্য পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহণ ও বিমার খরচ, যা আগে ৪০-৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল, তা এখন কমতে শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের ডাইরেক্টর জেনারেল অজয় সাহাই বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ায় রফতানিকারীরা অত্যন্ত স্বস্তি পেয়েছেন। তবে, তাঁর মতে এটি স্বল্প মেয়াদে বাণিজ্যের উন্নতি ঘটালেও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ এই যুদ্ধবিরতি কেবল অস্থায়ী।












