বাংলা হান্ট ডেস্ক : ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (Falta) ভোটগ্রহণ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ক্রমশই জটিল আকার নিচ্ছে। দ্বিতীয় দফার ভোটে একাধিক অনিয়ম ও অশান্তির অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের মাত্র চার দিনের মধ্যেই সেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দেয়।
ফলতায় (Falta) বেনিয়মের অভিযোগ
গত ২ মে, শনিবার নতুন করে ভোটের দিন ঘোষণা করা হয় ফলতায়। এই আবহেই কমিশনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট জমা পড়েছে, যেখানে মোট ২৪২ জনের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামীকাল ফল প্রকাশের পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিন ফলতায় ভোটের দিন একাধিক বুথে গুরুতর কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ইভিএমের ব্যালট ইউনিটের বোতামে আঠা বা আঁতর লাগানো হয়েছিল, যা রাজনৈতিক দলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হয়। এমনকি, ভোটারদের ভয় দেখানো থেকে বুথ দখল এবং বুথের ভিতরে অবৈধভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতির মতো ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুনর্নির্বাচনের দিন হিসেবে ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ভোট গণনা হবে ২৪ মে। তবে শুধুমাত্র ভোট বাতিল নয়, গোটা ঘটনার প্রশাসনিক দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্ট ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
অভিযোগ, প্রিসাইডিং অফিসার জানিয়েছেন বুথে থাকা ব্ল্যাক টেপ সরানোর পর ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু এত বড় ঘটনার পরেও তিনি কেন দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট দেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এক-দুটি নয়, প্রায় ৪০টিরও বেশি বুথে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
রিটার্নিং অফিসার এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকের কাজ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। এত অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁরা রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে রিপোলের প্রয়োজন নেই এবং সেই অনুযায়ী ফর্ম 17C জমা দেন। এমনকি বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আসছেন জেনেও সাধারণ পর্যবেক্ষক অপেক্ষা না করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। স্ক্রুটিনির সময় বিজেপিকে না ডাকার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। জেলার ডিইও এবং বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টেও একই ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন : সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ পোস্ট মমতার, কী লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
ফলতা কেন্দ্রের এই ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর আগামী ফল ঘোষণার দিকে, কারণ তার পরেই কমিশনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়ে যেতে পারে।













