‘দুর্নীতির শুরু মমতার ছবি বিক্রি থেকেই’, ইস্তফা দিয়েই বোমা ফাটালেন সুখেন্দুশেখর

Published on:

Published on:

'Corruption starts from selling Mamata's picture', Sukhendu Sekhar Roy burst into anger
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হল বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের (Sukhendu Sekhar Roy) পদত্যাগকে কেন্দ্র করে। সোমবার তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। শুধু সাংসদ পদ থেকেই নয়, তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ইস্তফার পরই তৃণমূলকে নিয়ে বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য করতে শোনা যায়।

কী বলেছেন সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)?

পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য করেন সুখেন্দুশেখর। তিনি বলেন, “দল যেভাবে চলা উচিত, চলেনি। এত বড় বিপর্যয়ের পর যেভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার ছিল, তা হয়নি। যাঁরা নানা কমিটিতে রয়েছেন, তাঁদের মতামত নেওয়া হত না। নিরুপায় হয়ে তা সত্ত্বেও অনেকে দাঁতে দাঁত চেপে ছিলেন। মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থাজ্ঞাপন করেছে। মানুষ যখন অনাস্থাজ্ঞাপন করে তখন আমি বুঝতে পেরেছি দল জনমন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।”

দলের ভিতরে দুর্নীতির শিকড় অনেক আগেই গজিয়ে উঠেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই ডেলো পাহাড়ে চিটফান্ড সংস্থার কর্ণধারদের সঙ্গে হওয়া বিতর্কিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন সুখেন্দুশেখর। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিক্রিকে ঘিরে অতীতের বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “ছবি ১০-১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সঙ্গে তুলনা করছেন। ছবি কিনছেন চিটফান্ডের মালিকরা। দুর্নীতি তো শুরু তখন থেকেই। দলে আদর্শ ছিল না। কর্মসূচি ছিল সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা আর লুটপাট করা। তা অবশ্য মানুষ কিংবা আমরা বুঝতে পারিনি। একটা সময় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিল।”

দলের অভ্যন্তরে সৎ ও নীতিবান নেতাদের গুরুত্ব ক্রমশ কমে গিয়েছিল বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। সুখেন্দুশেখরের কথায়, “নির্দিষ্ট কিছু লোক সারাক্ষণ নেতৃত্বের পাশে ঘোরাফেরা করছে। জনবিচ্ছিন্ন মানুষ যাঁদের অতীত নেই কোনও তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরলে হয়তো কিছু রোজগার হতে পারে। কিন্তু রাজনীতি নয়। দলের প্রশাসক যখন মানুষের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়, তখন নেতা এবং দলের পতন অনিবার্য।”

'Corruption starts from selling Mamata's picture', Sukhendu Sekhar Roy burst into anger

আরও পড়ুন : ১০ দিনের অতিরিক্ত ছুটির ঘোষণা, রাজ্যের এই কর্মীদের জন্য বড় ‘উপহার’ মুখ্যমন্ত্রীর, নির্দেশিকা জারি নবান্নের

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। অতীতেও এই ইস্যুতে সরব হওয়া সুখেন্দুশেখর বলেন, “আর জি কর নিয়ে আমি আগেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছি। ধরনা দিয়েছি। আমার অপরাধ বলেছিলাম আরজিকর এবং পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হল। যাঁরা অভিযুক্ত তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এইসব দেখেশুনে তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রত্যেকে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে। আমিও তাই করেছি। আমি জানতাম এটা ঘটবে। আর জি করের জনবিস্ফোরণ দেখেই বুঝেছিলাম, এটা হবে। চব্বিশ সালে দারুণ ফলের চার-পাঁচ মাস পর যেভাবে মানুষ পথে নামলেন, তা থেকেই বুঝেছিলাম এটা হবে।” সুখেন্দুশেখরের এই পদত্যাগ এবং পরবর্তী বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন, নাকি অন্য কোনও ভূমিকায় সক্রিয় থাকবেন, সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।