বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রত্যেক বছর পুজোয় রাজ্যের নানা জায়গায় মণ্ডপের কাছে বুকস্টল বসায় সিপিএম (CPIM Book Stall)। এবার সেই বুকস্টল ঘিরেই একের পর এক বিতর্ক। কোথাও স্টল বসানোর অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ, কোথাও আবার স্টল বাঁধতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় সিপিএমের বুকস্টল সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছে এই রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবারই সেই মামলার শুনানি হতে পারে।
হাইকোর্টে সিপিএমের বুকস্টল মামলা | (CPIM Book Stall)
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের দাবি, প্রত্যেকবারের মতো এবারও ডানলপ ব্রিজের কাছে অস্থায়ী প্রগতিশীল সাহিত্য বিপণন কেন্দ্র বসানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। এই নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে উদ্যোগ শুরু হয়। থানার নির্দেশ মতো বরানগর পুরসভা, পিডব্লিউডি, ব্যারাকপুর ট্রাফিক গার্ডে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর এই নিয়ে বরানগর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অনুমতি দেওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘এই মাসের বর্ধিত DA গ্রান্ট ইন এইড কর্মীরা..,’ ২০% অ্যাডিশনাল মহার্ঘ ভাতা নিয়ে খোঁচা ভাস্কর ঘোষের
বুধবার থানায় যাওয়া হলে আইসি জানান, অনুমতি দেওয়া হবে না। সংগঠনের দাবি, অনুমতি না দেওয়ার কোনও কারণ জানানো হয়নি। এমনকি তাঁরা বাদে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে ওই জায়গায় স্টল করতে দেওয়া হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নেরও কোনও জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ।
সংগঠনের দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। তবে ডানলপে অনুমতি না পাওয়া গেলেও অন্যান্য জায়গায় বুকস্টল তৈরির উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছে তাঁরা।
এছাড়া সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের অভিযোগ, ঢাকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে বুকস্টল বসাতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের কাছে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা। প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই এলাকায় নানা বামপন্থী দলের বুকস্টল বসানো হচ্ছে। তবে এই বছর স্টল বসানোর সময় বিজেপির দুষ্কৃতীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ।

সংগঠনের অভিযোগ, বহু নেতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের রাজ্য কমিটির সদস্য ও যাদবপুর-ঢাকুরিয়া লোকাল কমিটির সম্পাদক বাবুন চট্টোপাধ্যায়ের চোখে আঘাত লেগেছে বলে দাবি। ঢাকুরিয়া ছাড়া বেহালায় এসইউসিআই ও কাঁচরাপাড়ায় সিপিআইয়ের স্টলেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্যের পালাবদলের পর প্রথম পুজোতেই সিপিএমের স্টল নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পুজোর শুরুতেই একাধিক জায়গার স্টলে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের শুনানিতে কী হয় আপাতত সেদিকেই নজর সকলের।














