বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি বিধানসভায় পাশ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় বিল (The West Bengal Universities and College Amendment Bill, 2026)। খবরের শিরোনাম থেকে চর্চা সর্বত্রই আলোচ্য বিশ্ববিদ্যালয় বিল। এই প্রসঙ্গে কি বললেন বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশ হতেই কড়া প্রতিক্রিয়া বাম বিধায়কের
যেমন কথা তেমন কাজ। বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করে গতকালই পাশ হয়েছে ‘The West Bengal Universities and College Amendment Bill, 2026’। তারপরেই এদিন এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।
বিজেপি সরকারের পাশ করা এই বিলের ইতিমধ্যে বিরোধিতা শুরু করেছে বাম সমর্থকরা। এদিন নতুন এই বিল প্রসঙ্গে বাম নেতা বললেন, ‘বিরোধিতা এই কারণেই আজকে দাঁড়িয়ে যে বিল পাশ করা হলো সেটা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিল পাশ করানো হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্বাধিকার বিশ্ববিদ্যালয় যে স্বাধীনসত্তা অটোনামস বডি সেটা লঙ্ঘিত হবে এবং কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বা প্রফেসরদের ক্ষেত্রে যে বদলির এটা গৃহীত হলো। সেটাতে দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা হয়। তাহলে গবেষণা তো একজনের সুপারভিশন-এর মধ্যে দিয়ে অনেকগুলো ছাত্র ছাত্রী গবেষণা করে ।
আরও পড়ুনঃ ছুটির দিনে মিলবে না মেট্রো, ব্লু লাইনে ট্রাফিক ব্লক, পুজোর মুখে দুর্ভোগ যাত্রীদের
একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা যে কারণটা দেখানো হয়েছে যেটা এডমিনিস্ট্রেটিভ কজ। সেক্ষেত্রে এটা যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এবং নির্দিষ্টভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করে এই বিল আনা হল সেটা হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবেই এবং আগামীদিনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে।’
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরোধিতা করে তিনি বললেন,’ না মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ সুশাসন আনার লক্ষ্যে নয়তো, উনি প্রথম থেকেই একটা নির্দিষ্ট টার্গেট করেছেন যে যাদবপুর ইউনিভার্সিটির যারা স্লোগান লেখেন, যারা দেশ বিরোধী স্লোগান লেখে তার মানে টা কি? তার মানে উনি নির্দিষ্ট ভাবি বলছেন যে একটা বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করেই ওনারা যে বিল আনলেন সেই বিলটা সমগ্র শিক্ষার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। ‘
এরপরেই সাংবাদিক তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘বাগে আনা যায়নি, তৃণমূল আমলে যাদবপুর যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরাই রয়েছে। বা এখনও যে কান্ডটা ঘটল, সম্প্রতি যে কান্ড কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না।’
যদিও প্রশ্ন থামিয়ে দিয়েই তিনি বলে ওঠেন, ‘বাগে আনার কথা বলছেন কেন ? যাদবপুরে হচ্ছে টা কি? কি এমন হচ্ছে যাদবপুরে? যাদবপুর গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে দশটা ইউনিভার্সিটি গোটা ভারতবর্ষে দশটা ইউনিভার্সিটির মধ্যে এটা বারবার প্রমাণিত করেছে একটা হচ্ছে যাদবপুর। এক্সিলেন্স এর ক্ষেত্রে পড়াশোনার ক্ষেত্রে গবেষণার ক্ষেত্রে আপনি যদি দেখেন তাহলে গোটা পৃথিবীর মধ্যে যাদবপুর জায়গা করে নিয়েছে শুধু ভারতবর্ষের মধ্যে নয়। অন্য ইউনিভার্সিটির গুলোর তুলনায় যাদবপুরের যে সমস্যাটা দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এটা আসলে ওখানে দখলদারী করা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএসএসের মতাদর্শকে ওখানে সার্ভিস করাই মূলত টার্গেট।’
রাজ্যের শাসকদলের যাদবপুর কে টার্গেট করার প্রসঙ্গে তিনি আরও বললেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী যখন জবাবি ভাষণ দিচ্ছেন তখন একটা ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টিদের ধরে ধরে বলছেন কেন? আর অন্য ইউনিভার্সিটি গুলোর কথা তো একবারও উচ্চারণ করলেন না। আরও যে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি । তার মানে হচ্ছে যাদবপুর কে টার্গেট করে আগামী দিনে এই ব্যবস্থা উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে যেটা আগামী দিনে গবেষণার ক্ষেত্রে বা উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা অরাজকতা তৈরি হবে।’
তাই তিনি দাবী করেছেন, ‘শুধুমাত্র বামপন্থীরা ছাড়া কেউ প্রকৃত লড়াই করবেন না। এটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজকে বুঝতে পেরেছেন ।বিজেপি বিরোধী যে মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই নন্দীগ্রামে রেজিনগরে যেখানেই এরপরে নির্বাচন হবে সেই সব জায়গাতেই বিরোধী দল হিসেবে বামপন্থীরা এগিয়ে আসবে । এবং ধীরে ধীরে বিজেপির বিরোধী যে পরিসর সেটা আস্তে আস্তে বামপন্থীদেরই বিশ্বাস করবে।’













