ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে বদলাবে ভারতের ছবি! তৈরি হবে ৪.৩৩ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান, বাড়বে বাড়ির চাহিদাও

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে ভারতে ডেটা সেন্টারের (Data Centers) ক্ষেত্র। এমতাবস্থায়, এই সেক্টর আগামী বছরগুলিতে শুধু প্রযুক্তি খাতকেই নয়, বরং রিয়েল এস্টেট খাতকেও উপকৃত করবে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডেটা সেন্টারগুলি কর্মসংস্থানের (Employment) ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধা দিতে পারে। প্রপটেক কোম্পানি স্কয়ার ইয়ার্ডস-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, দেশে প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪,৩৩,০০০ কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। এর পাশাপাশি প্রায় ১৯.৫ কোটি বর্গফুট বাড়ির চাহিদাও তৈরি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুসারে, ভারত (India) প্রায় ৯,০৩০ মেগাওয়াট ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা করছে। এই আবহে ডেটা সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পরিকাঠামো ও ব্যবসা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। তাই, কর্মীদের কথা মাথায় রেখে ডেটা সেন্টারের আশেপাশের এলাকাগুলিতে বাড়ি, দোকান, স্কুল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার চাহিদাও বাড়তে পারে।

ডেটা সেন্টারের (Data Centers) মাধ্যমে বদলাবে ভারতের ছবি!

ডেটা সেন্টারের (Data Center) চারপাশে একটি ‘গোল্ডেন রিং’ গঠিত হবে: জানিয়ে রাখি যে, রিপোর্টে ডেটা সেন্টারের এই প্রভাবকে ‘ডোনাট এফেক্ট’ হিসাবে বিবেচিত করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, বেশিরভাগ রিয়েল এস্টেট কার্যকলাপ সরাসরি ডেটা সেন্টারের ভেতরে বা ক্যাম্পাসে ঘটবে না। বরং, ডেটা সেন্টার থেকে প্রায় ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব অনুভূত হবে। রিপোর্টে এই এলাকাকে ‘গোল্ডেন রিং’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে সড়ক, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন আবাসিক প্রকল্প থেকে শুরু করে টাউনশিপ, দোকান, অফিস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও গড়ে তোলা যেতে পারে। এর মানে হল, ডেটা সেন্টারের চারপাশের পুরো এলাকাটি ক্রমান্বয়ে একটি নতুন নগর করিডোরে পরিণত হতে পারে।

Data centers will create huge jobs in India.

ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভারতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে: উল্লেখ্য যে, ভারত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ ডিজিটাল ডেটা উৎপাদন করে। কিন্তু, বিশ্বের মোট ডেটা সেন্টার সক্ষমতায় এর অংশ মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ। এর অর্থ হল, ভারতে ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কোম্পানিগুলির দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের ফলে ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ, ফাইবার নেটওয়ার্ক ও লজিস্টিকসের মতো সেক্টরেও বিনিয়োগ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সচিন তেন্ডুলকর নন! এই কিংবদন্তিকে ক্রিকেটের GOAT হিসাবে বিবেচিত করলেন ব্রেট লি

ছোট শহরগুলিও এর থেকে উপকৃত হতে পারে: রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ডেটা সেন্টারের সুবিধা শুধু দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগলিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, ভবিষ্যতে দেশের টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলিও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলিতে সরাসরি খুব বেশি নিয়োগ করা না হলেও, সেগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। এছাড়াও, এটি উন্নত পরিকাঠামো ব্যবসা এবং রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে। এইভাবে, আগামী বছরগুলিতে ডেটা সেন্টারগুলি ভারতের নতুন ডিজিটাল পরিকাঠামো কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি নতুন রিয়েল এস্টেট এবং কর্মসংস্থান কেন্দ্রও হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসিকে প্রাণে মারার ছক! ‘টার্গেট’ ছিলেন রোনাল্ডোও, কীভাবে এড়ানো গেল হামলা?

মহারাষ্ট্রে আবাসনের চাহিদা সর্বোচ্চ: রিপোর্ট অনুসারে, ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের কারণে মহারাষ্ট্রে আবাসিক চাহিদা সর্বোচ্চ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ৫৪ মিলিয়ন বর্গফুট। এরপরেই রয়েছে কর্ণাটক (প্রায় ২৮ মিলিয়ন বর্গফুট), অন্ধ্রপ্রদেশ (২৩ মিলিয়ন বর্গফুট) এবং উত্তরপ্রদেশ (প্রায় ২২.৭ মিলিয়ন বর্গফুট)। এছাড়াও, তেলেঙ্গানায় প্রায় ২.১৬ কোটি বর্গফুট এবং তামিলনাড়ুতে প্রায় ১.৯৪ কোটি বর্গফুট বাড়ির চাহিদা তৈরি হতে পারে।