বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিএ মামলায় আবারও নতুন মোড়। পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে বহুদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশা-নিরাশার লড়াই চলছে। ঠিক যখন মনে করা হচ্ছিল বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি হয়তো পরিষ্কার হতে চলেছে, তখনই সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া একটি রিপোর্ট নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সব কর্মচারী এই বকেয়া টাকা পাবেন না। ফলে অনেকের মধ্যেই এখন উদ্বেগ বাড়ছে।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের রিপোর্টে কী বলা হয়েছে (Dearness Allowance)
পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় রাজ্য সরকার সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে ২১৫ পাতার একটি মডিফিকেশন পিটিশন জমা দিয়েছে। ওই রিপোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে- শুধুমাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন বর্তমান সরকারি কর্মচারী এই বকেয়া পাওয়ার আওতায় থাকবেন। এঁরা হলেন সরাসরি রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা কর্মচারী, যাঁদের বেতন সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা পেনশনাররাও এই বকেয়া পাওয়ার তালিকায় থাকবেন।সুপ্রিম কোর্টের চার সদস্যের মনিটরিং কমিটিও এই সংখ্যাকে ভিত্তি করেই বকেয়া মেটানোর হিসাব তৈরি করছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন কোন কর্মচারী বাদ পড়তে পারে?
এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই অনেক কর্মচারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৯ লক্ষের বেশি কর্মচারী বকেয়া পাওয়ার আওতায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পিটিশনে সেই বড় সংখ্যার উল্লেখ নেই। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কয়েকটি বড় কর্মী গোষ্ঠী বকেয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। যাঁদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন –
- শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী – সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা
- পঞ্চায়েত কর্মী – গ্রামীণ ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীরা
- পৌরসভার কর্মী – বিভিন্ন পুরসভা ও কর্পোরেশনের কর্মীরা
এই সব স্তরের কর্মচারীরা শেষ পর্যন্ত বকেয়া (Dearness Allowance) পাবেন কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ডিএ মামলায় বড় আপডেট! কর্মীদের সার্ভিস বুক আপলোডের জন্য আসছে বিশেষ পোর্টাল
বকেয়া মেটাতে আরও সময় চাইল রাজ্য
শুধু সুবিধাভোগীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করাই নয়, বকেয়া (Dearness Allowance) মেটানোর জন্য রাজ্য সরকার আদালতের কাছে আরও সময়ও চেয়েছে। নতুন আবেদনে নবান্ন জানিয়েছে বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হোক। অর্থাৎ এখন পুরো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে। আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কারা এই বকেয়া টাকা পাবেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের বহু সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার।












