বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের বহুদিনের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মামলা নিয়ে আবার নতুন মোড়। এবার বকেয়া হিসাব মেটানোর জন্য বিশেষ একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। সেখানে কর্মীদের নিজেদের সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করতে হতে পারে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রাজ্যের আবেদনে উঠে এসেছে।
কেন নতুন করে সময় চাইছে রাজ্য?
রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের ডিএ (Dearness Allowance) বকেয়া মামলার বিষয়টি আবারও সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারির নির্দেশকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার একটি মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছে। তবে এই আবেদনে আগের নির্দেশ বাতিল করার দাবি করা হয়নি। বরং বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে।
রাজ্যের যুক্তি, বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানোর ক্ষেত্রে মূল সমস্যা অর্থনৈতিক। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি যে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করা হয়েছিল, তাতে এই বকেয়া মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, আগামী জুলাই ২০২৬-এ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সময় এই বকেয়ার হিসাব ধরা হবে।
এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) এবং বাকি অংশের প্রথম কিস্তি মেটাতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলাও হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য রাজ্য সরকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা চেয়েছে।
পুরনো তথ্যের জন্যই আসছে নতুন পোর্টাল (Dearness Allowance)
ডিএ (Dearness Allowance) বকেয়ার হিসাব করতে গিয়ে একটি বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়েছে প্রশাসন। জানা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া পাবেন প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন কর্মী ও পেনশনার।
২০১৬ সাল থেকে কর্মীদের বেতনের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে সেই সময়ের হিসাব তুলনামূলক সহজ। কিন্তু ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের বেতন সংক্রান্ত তথ্য এখনও সার্ভিস বুকে হাতে লেখা অবস্থায় রয়েছে। এই পুরনো তথ্যগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে আনতেই একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
কর্মীদের কী করতে হবে?
নতুন পোর্টাল চালু হলে কর্মীদের কিছু তথ্য নিজেরাই জমা দিতে হবে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হল –
সার্ভিস বুক আপলোড: কর্মীদের নিজেদের পুরনো সার্ভিস বুক স্ক্যান করে পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
বেসিক পে তথ্য: চাকুরিজীবী ও পেনশনারদের নিজেদের মূল বেতন বা বেসিক পে-র তথ্য দিতে হবে।
নিরাপদ লগইন ব্যবস্থা: পোর্টালে প্রবেশের জন্য ওটিপি এবং ইমেল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থাও রাখা হবে।
জানা গেছে, ৭ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে পোর্টালের কারিগরি পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এরপর ১৪ মার্চের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ এখনই DA নয়! ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন রাজ্যের
কীভাবে দেওয়া হতে পারে বকেয়া টাকা?
ডিএ (Dearness Allowance) বকেয়া পরিশোধের পদ্ধতি নিয়েও আলাদা আলোচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ কমিটি ৫৭ হাজার ৭৯০ জন গ্রুপ ডি কর্মীকে নগদে বকেয়া দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা এই অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করার পক্ষে। যদি গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রেও পিএফে টাকা জমা করা হয়, তাহলে অন্যান্য শ্রেণির কর্মীদের বকেয়াও একই পদ্ধতিতে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।












