এখনই DA নয়! ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন রাজ্যের

Published on:

Published on:

Nabanna Seeks More Time from Supreme Court about Dearness Allowance case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আবারও নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা থাকলেও, এই মুহূর্তে তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করল রাজ্য সরকার। সেই কারণেই শীর্ষ আদালতের কাছে নতুন করে আবেদন জানিয়ে আরও সময় চেয়েছে রাজ্য। আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত আগামী ৩১ ডিসেম্বরের আগে এই অর্থ মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কী আবেদন নবান্নের?

রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে বলা হয়েছে, বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে। সেই কারণেই আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্যের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জমে থাকা বকেয়া ডিএ পাওয়ার জন্য বর্তমানে কর্মরত মোট ৩,১৭,৯৫৪ জন সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের হিসাব আলাদাভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

আবেদনে রাজ্য আরও জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার সরকারের কাছে নেই। এই সমস্ত তথ্য কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (C&AG)-এর দফতরে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে পেনশনভোগীদের বকেয়া হিসাব নির্ধারণ করতেও আলাদা সময় লাগবে। রাজ্যের বক্তব্য, AICPI (সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্য সূচক) অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করা হয়। এই নিয়ম কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত, উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি কর্মীদের বেতনের রেকর্ড রয়েছে ২০১৬ সাল থেকে। তার আগের সময়ের সমস্ত তথ্য রয়েছে হাতে লেখা ‘সার্ভিস বুক’-এ। ফলে যাঁদের নিয়োগ ২০১৬ সালের আগে হয়েছে, তাঁদের সার্ভিস বুক খুঁজে বের করে আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। রাজ্যের দাবি, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।

নির্বাচন ও বাজেটের প্রসঙ্গও তুলল রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে রাজ্য জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো পুরোপুরি নির্ভর করছে দু’টি বিষয়ের উপর।

  • প্রথমত, রাজ্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে কি না।
  • দ্বিতীয়ত, সামনে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বড় হিসাবনিকাশ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ কী ছিল?

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে রাজ্য সরকারকে প্রথমে ২৫ শতাংশ ডিএ এরিয়ার সমেত দিতে হবে। পাশাপাশি বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

Speculations abound around the Indu Malhotra Committee report on the Dearness Allowance case

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে বড় প্রশাসনিক রদবদল! একসঙ্গে বদলি একাধিক IAS-WBES অফিসার, নতুন দায়িত্বে কারা?

তবে সেই নির্দেশের পর থেকেই আন্দোলনরত সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, আদৌ রাজ্য সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ডিএ (Dearness Allowance) মেটাবে কি না। এই নিয়ে তারা একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। যদিও নবান্নে গিয়ে সরাসরি তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের মাধ্যমেই সেই স্মারকলিপি নবান্নে পাঠানো হয়। এর মধ্যেই রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।