বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাত গভীর হতেই আবারও রাস্তায় নামল বুলডোজার, এবার হকার উচ্ছেদ অভিযান যাদবপুরে (Jadavpur Hawker Eviction)। রবিবার সন্ধ্যে থেকেই সিপিএম ও কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রতিবাদ চলছিল উদ্দেশ আটকাতে। কিন্তু রাত্রি বারোটার কাছাকাছি যাদবপুর স্টেশন চত্বর ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বসানো হয় ব্যারিকেড, তারপর অবৈধ দোকান ও নির্মাণ গুড়িয়ে দিল বুলডোজার। ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ এমনকি সৃজন ভট্টাচার্য সহ আরও দুজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রবিবার রাত নামতেই যাদবপুরে বুলডোজার (Jadavpur Hawker Eviction)
যাদবপুর ২১২ বাস স্ট্যান্ডে গতকাল সন্ধ্যে থেকেই উত্তেজনার পরিস্থিতি। অদূরেই দাঁড়িয়ে একাধিক বুলডোজার, ফলে হকার উচ্ছেদের তীব্র আশংকায় উত্তেজিত স্থানীয়রা। উচ্ছেদ অভিযান যাতে আটকানো যায় তার জন্য ঘটনাস্থলে ছিলেন SFI এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সৃজন, ঊষাসী চক্রবর্তী থেকে কংগ্রেসের সৌরভ প্রসাদ সহ অনেকেই। কেউ বুলডোজারের উপরে উঠে তো কেউ সামনে শুয়ে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বিশাল কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার।
সৃজন ও ঊষসীর বক্তব্য
এদিন উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে সৃজন জানান, হকারদের এখানে বসাটা বেআইনি যারা বলছেন তাঁরা যেভাবে উচ্ছেদ করছেন সেটাও বেআইনি। কমার্শিয়াল প্লট না বা পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না। ১৯৮৮ সালেই এই মর্মে রায় দেওয়া হয়েছিল। রেলের তরফ থেকে এর সার্টিফায়েড কপি চাওয়া হলে আজ অর্থাৎ ৮ই জুন কোর্ট খোলার পর ২১ দিনের সময় চাওয়া হয়েছিল। তাও কথার খেলাপি করল রেল।
আরও পড়ুনঃ ‘পচা-দুর্গন্ধ…এ বার ব্রিগেডের মাঠেই জেল বানাতে হবে’! দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে খোঁচা শুভেন্দুর
ঊষসী জানান, এখানে হকার থাকাটা যেমন বেআইনি তেমনি আজকের উচ্ছেদটাও বেআইনি। আগেই নোটিশ দেখিয়ে কথা হয়েছিল কোর্ট খোলা হলে সার্টিফায়েড কপি দেওয়া হবে। তারপরেও আদালত অবমাননা করে উচ্ছেদ হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতেই হবে। এভাবে একটা রাজ্য চলতে পারে না। আইন আদালত বলে একটা ব্যাপার তো আছেই।

এরপর রাত্রি ১১টা ৩৯ মিনিট নাগাদ তিনি একটি ফেসবুক পোস্ট করে লেখেন, ‘Kpc থেকে এই বাড়ি ফিরলাম । অনেকে এখনও কেপিসি তে । জয়রাজ সহ বাকি আহত দের চিকিৎসা চলছে । সৃজন সহ অনেকে গ্রেপ্তার । বিদেশের মতো চকচকে রাস্তা যারা চাইছেন তারা আসা করি বিদেশের মতোই মনোবাধিকার , মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা , শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও দাবি জানাবেন । হকার দের সরকার সরাতেই পারেন কিন্তু তাদের বিকল্প জীবিকা বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে – দাবি এটুকুই ছিলো !’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহের মঙ্গলবারও হকার উচ্ছেদের আশঙ্কার জেরে প্রতিবাদ হয়েছিল। যদিও সেদিন উচ্ছেদ হয়নি। তার আগে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বেআইনি নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদ করেছে রেল। সূত্রমতে প্রায় ৫০০ অস্থায়ী ঝুপড়ি ও দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি হাওড়া এলাকায় বহুতলের বেআইনি নির্মাণেও বুলডোজার চলেছে।













