আহমেদাবাদের এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দেবাঙ্গ জোশী তাঁর উদ্ভাবনী সৌর ড্রায়ার প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ার বড় সমস্যাকে লাভজনক সাফল্যে (Success Story) রূপান্তরিত করে কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী উদাহরণ তৈরি করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘রুদ্র সোলার এনার্জি’ আজ ৬ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার অর্জনকারী একটি সফল স্টার্টআপ, যা মাত্র ৫ লক্ষ টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।
দেবাঙ্গ জোশীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
ভারতে ফসল কাটার পরে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের সুযোগের অভাবে বিপুল পরিমাণ শাকসবজি ও ফল নষ্ট হয়, যার ফলে কৃষকরা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। এই সমস্যা সমাধানে দেবাঙ্গ জোশী সূর্যের তাপ ব্যবহার করে বিশেষ সৌর ড্রায়ার তৈরি করেন, যা বিদ্যুৎ ছাড়াই ফল ও সবজির রং, স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে শুকিয়ে ফেলতে পারে। এই প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যে মূল্য সংযোজন করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ভারতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে দেন অদ্ভুত যুক্তি! এবার বাংলাদেশেই ‘ট্রোল’ হচ্ছেন মোসাদ্দিক
এই ড্রায়ারের সুবিধা হল, এটি কাঁচা পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। যেমন, কাঁচা আদা শুকিয়ে গুঁড়ো করলে তার মূল্য দ্বিগুণ হয় এবং সেটি ভেষজ চা বা মশলা হিসেবে বিক্রি হলে প্রতি কিলোগ্রাম ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। রুদ্র সোলার এনার্জির ড্রায়ারগুলির দাম ৬,৫০০ টাকা থেকে ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হওয়ায়, ছোট কৃষক থেকে বড় কৃষি-ব্যবসায়ী—সকলেই এটি ব্যবহার করতে পারেন।
বর্তমানে এই সৌর ড্রায়ার ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, এমনকি লাদাখের ঠান্ডা অঞ্চল থেকে কন্যাকুমারীর আর্দ্র জলবায়ু পর্যন্ত। সংস্থাটি ইতিমধ্যে ৪৫,০০০টিরও বেশি ইউনিট বিক্রি করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫,০০০ ইউনিট সরাসরি জীবিকা সৃষ্টির সাথে যুক্ত। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই প্রযুক্তির সুবিধাভোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। শুধু ভারত নয়, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ মোট ১৮টি দেশে রুদ্র সোলার এনার্জির পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৩৭ দিন পর অবশেষে মুক্তি, আদালতে জামিন পেলেন ‘মেসি কাণ্ডের’ শতদ্রু দত্ত
২০১৬-১৭ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পর সংস্থাটির দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছে। দেবাঙ্গ জোশীর লক্ষ্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে বার্ষিক টার্নওভার ২৫ কোটি টাকায় পৌঁছানো। সেই লক্ষ্যে তিনি উৎপাদন ক্ষমতা দশ গুণ বাড়াতে নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর এই উদ্ভাবন শুধু কৃষি বর্জ্য কমায়নি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের পথও তৈরি করেছে।












