বাংলাহান্ট ডেস্ক: একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে কীভাবে সাফল্য (Success Story) অর্জন করা যায় তারঅন্যতম উদাহরণ হল দেবেন্দ্র কুমার। মাত্র দুই বছর বয়সে দিল্লির দক্ষিণপুরীর এক বস্তিতে তাঁর বাবা-মা তাঁকে ফেলে দিয়ে চলা যান। শুধু তাঁকে একা নয়, তাঁর কোলে তখন ছিল তিন মাসের ছোট বোন। সেই অসহায় পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনসংগ্রাম। যেখানে অন্য শিশুরা পরিবারে বড় হয় বাবা-মায়ের আদরে, সেখানে দেবেন্দ্রকে ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব নিতে হয়েছে বোনকে বাঁচানো ও বড় করে তোলার। অভাব, অনিশ্চয়তা আর প্রতিকূলতার মাঝেই গড়ে ওঠে তাঁর লড়াইয়ের গল্প।
দেবেন্দ্র কুমারের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লড়াই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সমাজসেবার এক অনন্য উচ্চতায়। ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লাডলি ফাউন্ডেশন, যার মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের বিয়ে ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আজ এই সংস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিত এবং বহু প্রশাসনিক আধিকারিক, এমনকি আইএএস ও পিসিএস অফিসাররাও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেন।
আরও পড়ুন: বিস্ফোরক অভিযোগ! ভোট প্রচার থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে মমতাকে? নির্বাচন কমিশনে বিজেপির সুকান্ত-রিজিজুরা
দেবেন্দ্র কুমার ব্যক্তিগত জীবন থেকেই এই কাজের অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং নিজের বোনকেও সেই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করে তিনি বোনের বিয়ে দেন। তাঁর মতে, প্রতিটি ব্যর্থতা ও কষ্টই তাঁকে আরও শক্ত করে তুলেছে এবং সমাজের জন্য কিছু করার প্রেরণা জুগিয়েছে।
লাডলি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই ৫১ জন মেয়ের গণবিবাহের আয়োজন করেছেন। এই উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন। ‘শগুন’ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের দিনেই প্রয়োজনীয় সহায়তা জোগাড় করা হয়ে থাকে। সেখানে যেমন কেউ বিনামূল্যে বিয়ের হলের ব্যবস্থা করে দেন, তো কেউ আবার প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেন। পাত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই থেকে শুরু করে পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেয় সংস্থাই।

আরও পড়ুন: ঝোল নয়, এবার প্লেটে আনুন অন্য স্বাদ—ঘিয়ে রোস্ট মাংসেই হোক জমজমাট পদ, রেসিপি রইল
৩০ মার্চ দিল্লির একটি বড় হলে আবারও ৫১ জন মেয়ের গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং ধর্মীয় গুরু স্বামী অবধেশানন্দ গিরির। পাশাপাশি বহু আধিকারিক কন্যাদানে অংশ নেবেন। দেবেন্দ্র জানান, প্রতিটি মেয়ের জন্য আর্থিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং বিয়ের পরেও তাঁদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়। তাঁর এই সফল (Success Story) উদ্যোগ আজ অসংখ্য মেয়ের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাচ্ছে।
















