বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার ধর্মতলায় NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ (Dharmatala Protest) ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় শুক্রবার। অভিযোগ, আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে একদল ব্যক্তি ভাঙচুর চালায়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা করে। ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তাঁদের মধ্যে বাংলা হান্টের প্রতিনিধি শোভন চক্রবর্তীর উপরেও হামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর তদন্তে নেমে একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছে কলকাতা পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কেউই ছাত্র নন।
ধর্মতলা বিক্ষোভে (Dharmatala Protest) সাংবাদিক নিগ্রহ ও ১৪ গ্রেফতার, কী জানা গেল?
শুক্রবার কথিত NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি সিজেপি-র সমর্থকরাও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বলে জানা যায়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, NTA ভেঙে দেওয়া এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর কথিত পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি হয়েছিল। বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে (Dharmatala Protest)। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ রাস্তা অবরোধ করে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছোড়ে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। সেই সময় ভাঙচুর, অশান্তি এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও সামনে আসে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর তদন্তে গতি আনে পুলিশ। প্রথমে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে পাকড়াও করা হয়। ফলে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে দুই অভিযুক্ত রাজ্য ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। তাদের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের অন্ডাল এলাকা থেকে আটক করা হয়। কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা এবং অ্যান্টি রাউডি সেকশন যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের রাজনৈতিক যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃত ১৪ জন কারা?
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৪ জন ধৃতরা হল –
- ইরফান খুরশিদ (৩০) — পিতা- প্রয়াত মহম্মদ খুরশেদ। জোড়াসাঁকো, ভবানী দত্ত লেনের বাসিন্দা, কলকাতা-৭৩।
- আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০) — পিতা- মহম্মদ আলি।পাটওয়ার বাগান লেন, থানা- আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা, কলকাতা-৯।
- মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬) — পিতা- মহম্মদ শাহাবুদ্দিন। তিলজলার বাসিন্দা, কলকাতা-১৭।
- মহম্মদ আলমগির ওরফে রাজু (৪৮), — পিতা- প্রয়াত মহম্মদ আকবর। জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা, কলকাতা-৭।
- ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯) — পিতা- শেখ আমিন। মার্কুইস স্কোয়ার, জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা, কলকাতা-৭।
- খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৮) — পিতা- প্রয়াত হাজি আবু শামস আবদুল গফ্ফুর। মদন মোহন বর্মণ স্ট্রিট, জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা, কলকাতা-৭।
- জমির আহমেদ ওরফে মিঙ্কু (৪২) — পিতা- আমির আহমেদ। মেহের আলি রোড, বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা, কলকাতা-১৭।
- মহসিন খান ওরফে রাজু (৩০) — পিতা- মহম্মদ মবিন খান। বেকবাগান রো, কড়েয়ার বাসিন্দা, কলকাতা-১৭।
- দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮) — পিতা- অশোক ভৌমিক। রাধা গোবিন্দ সাহা লেন, কড়েয়ার বাসিন্দা, কলকাতা-১৭।
- মহম্মদ আজাদ — পিতা- মোঃ ফারুকি। পাহাড়পুর রোড, গার্ডেনরিচের বাসিন্দা, কলকাতা-২৫।
- মহম্মদ আফরোজ — পিতা- মহম্মদ সাব্বির। রাজাবাগান গেট, পাচড়া, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা, কলকাতা-১৮। অন্ডালের কাছে আটক, পালানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ
- শাহবাজ খান (৩৪) — কড়েয়ার বাসিন্দা
- মহম্মদ সালমন হোসেন (২৯) — রাজাবাগানের বাসিন্দা
- মহম্মদ জহিরুদ্দিন মাল — ভাঙড়ের বাসিন্দা

আরও পড়ুনঃ ৪০ একর জমিতে বিশাল প্রকল্প! পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন বিধানসভা ভবন
কলকাতা পুলিশের বক্তব্য, ধৃতদের কেউই ছাত্র নন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, হিংসা, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে (Dharmatala Protest)। অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতদের বিরুদ্ধে গুণ্ডাদমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্ত এগোচ্ছে। পুলিশের ইঙ্গিত, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও গ্রেফতার হতে পারে। তদন্তকারীরা এখন প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।













