বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে প্রার্থীদের সম্পত্তি ও আয়ের হিসেব প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে নিজের আর্থিক খতিয়ান জমা দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। এবার সেই হলফনামা ঘিরেই তৈরি হয়েছে চর্চা। ঠিক কত আয় করেন তিনি, কী কী সম্পত্তি রয়েছে, আর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের নামে কত কিছু আছে, সবটাই সামনে এসেছে এই রিপোর্টে।
কত টাকার মালিক দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)?
খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর জমা দেওয়া হলফনামায় গত পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্নের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেই হিসেব বলছে, গত কয়েক বছরে তাঁর আয় ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধির দিকেই গেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার বেশি। তার আগের বছর ২০২৩-২৪-এ তা কমে দাঁড়ায় ৯ লক্ষের কিছু বেশি। আবার ২০২২-২৩-এ আয় ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ২০২১-২২ সালে আয় ছিল ৭ লক্ষ ৭২ হাজারের কাছাকাছি। ২০২০-২১ সালে কোনও আয় দেখানো হয়নি।
শুধু দিলীপ ঘোষই (Dilip Ghosh) নন, তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের আয়ের হিসেবও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে তাঁর আয় ছিল প্রায় ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা। আগের বছর ৬ লক্ষ ১১ হাজার, তারও আগে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি আয় ছিল। মনোনয়ন জমার সময় দিলীপ ঘোষের হাতে নগদ ছিল ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কাছে ছিল ৫ লক্ষ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসে বিনিয়োগ রয়েছে দুজনেরই। সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। রিঙ্কু মজুমদারের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার মতো। স্থাবর সম্পত্তির খতিয়ানেও বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। দিলীপ ঘোষের নামে প্রায় ১.৮৮ একর কৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দুটি ফ্ল্যাট আছে। একটি ৮০০ বর্গফুট এবং অন্যটি প্রায় ৩,৪৮৩ বর্গফুটের। এই সম্পত্তিগুলির মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার বেশি। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের নামেও রয়েছে সম্পত্তি। একটি ১,৩০৭ বর্গফুটের বাণিজ্যিক ভবন ছাড়াও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।
গাড়ির ক্ষেত্রে একটি বিষয় নজর কাড়ে। দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) নিজের কোনও গাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে একটি চার চাকার গাড়ি রয়েছে। এছাড়া নিজের নামে কোনও সোনা-গয়না নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। ঋণের ক্ষেত্রে দুজনের কারও উপরই কোনও দায় নেই, সেটাও স্পষ্ট করা হয়েছে হলফনামায়। আইনি দিক থেকে দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। খুনের চেষ্টা থেকে শুরু করে দাঙ্গায় উসকানির অভিযোগ—সব মিলিয়ে মোট ২৮টি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মামলাতেই চার্জ গঠন হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মালদহে বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ, আজ সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি
উল্লেখ্য, রাজনীতির ময়দানে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) পথচলা শুরু হয় ২০১৬ সালে। সেই সময় প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েই জয় পান তিনি এবং দীর্ঘদিনের কংগ্রেস বিধায়ক জ্ঞান সিংহ সোহন পালের আসন দখল করেন। এরপর সাংসদ হলেও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তাঁকে। এবার ২০২৬-এ আবার খড়গপুরের মাটিতেই ফিরেছেন তিনি। ভোটাররা এবার কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার।












