বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছায়, যেখানে বিচারকরাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন। ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই উত্তেজনার শুরু, আর তার মধ্যেই আটকে পড়েন একাধিক বিচারবিভাগীয় অফিসার। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এখন তদন্তে নেমে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এনআইএ, আর বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত।
কী ঘটেছিল?
গত বুধবার মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এলাকা কার্যত অশান্ত হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতেই বিডিও অফিসে আটকে পড়েন সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের ঘিরে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
রাতের দিকে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও, সমস্যা সেখানেই শেষ হয়নি। মাঝরাতে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিচারকদের গাড়ি আবারও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলে পুরো ঘটনাই আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। এরপরই তদন্তের দায়িত্ব নেয় এনআইএ। ইতিমধ্যেই তারা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আক্রান্ত বিচারকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছে তদন্তকারী দল। এমনকি বালিগঞ্জে গিয়ে এক মহিলা বিচারকের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ঘটনার রিপোর্ট তলব
এছাড়া বিচারকদের নিরাপত্তায় থাকা পাইলট কারের চালকদেরও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যাতে বোঝা যায় কোথায় কীভাবে নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল। এই পুরো ঘটনার রিপোর্ট আজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দিতে চলেছে এনআইএ। জানা গিয়েছে, বিকেলের দিকে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে।

এদিকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আজই প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু ভোট শুরু হতে আর মাত্র ১৬ দিন বাকি থাকলেও এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। অনেক নাম এখনও যাচাইয়ের মধ্যে রয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে (Supreme Court)।












