বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু ভোটের আগে হঠাৎই বড় জটিলতা তৈরি করেছে SIR বা সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক। লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়া, ট্রাইব্যুনালে মামলা, আর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্ধারিত সময়েই কি ভোট হবে, নাকি পিছিয়ে যেতে পারে পুরো প্রক্রিয়া? এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
আজ সুপ্রিম কোর্টে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা সংক্রান্ত শুনানি
আজ অর্থাৎ, সোমবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা সংশোধিত ভোটার তালিকা জমা দেবেন। অথচ ভোটের দিন (West Bengal Assembly Election 2026) ঠিক হয়ে গেছে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই জট পুরোপুরি কাটেনি। এই সমস্যার সূত্রপাত মূলত ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়াকে ঘিরে। জানা যাচ্ছে, চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ৩৩ লক্ষ নাম ফের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এখনও প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারেন। এই বাদ পড়া ভোটারদের অনেকেই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে হস্তক্ষেপ করে। রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেই নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি বড় দল গঠন করা হয়, যার সংখ্যা পরে ৭০০-তে পৌঁছয়। পাশাপাশি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও আরও আধিকারিক আনা হয়েছে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য।
ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে সব অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে জোর তৎপরতা
তবে এখানেই শেষ নয়। আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কীভাবে কাজ শুরু করবে বা কবে পুরোপুরি চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে নির্বাচন শুরুর আগে সব অভিযোগের নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক জটিলতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই আবহে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মালদায় বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন আধিকারিককে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। এদিকে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি একটি সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, যদি এত সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ে, তাহলে আগের বৈধ ভোটার তালিকা, অর্থাৎ ২০২৫ সালের তালিকাই আপাতত ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া যেতে পারে।
তবে নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যায়। প্রথম দফার ক্ষেত্রে সেই তারিখ ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ৯ এপ্রিল। একবার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেলে, তাতে আর নতুন করে নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকে না যদি না সুপ্রিম কোর্ট সময়সীমা বাড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) কি নির্ধারিত সময়েই হবে, নাকি ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা পিছিয়ে যেতে পারে? নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য, কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য কীভাবে পূরণ হবে, সেটাই এখন দেখার।