বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুরসভার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই এবার নতুন মোড় নিল খড়্গপুরে। বোর্ড গঠন ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। শুধু পুলিশের আচরণের সমালোচনাতেই থামেননি তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অযথা বলপ্রয়োগ করা হলে পুলিশের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। একজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে।
কী বলেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)?
জানা যাচ্ছে, খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড গঠনের বিরোধিতা করে সম্প্রতি পুরসভা চত্বরে প্রতিবাদে সামিল হন বিজেপি কর্মীরা। সেই কর্মসূচি ঘিরে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর পরেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ করে পুলিশ এবং কয়েকজন বিজেপি কর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়। এই পদক্ষেপ নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
মন্ত্রীর বক্তব্য, খড়্গপুরে পুলিশের এমন ভূমিকা আগে চোখে পড়েনি। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে লাঠিচার্জের আশ্রয় নিয়ে পুলিশ নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। সরকার বদলের পরে প্রশাসনের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাবে বলে বিজেপি কর্মীদের যে প্রত্যাশা ছিল, এই ঘটনা তার বিপরীত ছবি তুলে ধরেছে বলেই দাবি তাঁর।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে অবশ্য পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিরোধিতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের কাজ, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অকারণে শক্তি প্রয়োগ করা উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নামে অতিরিক্ত সক্রিয়তা দেখালে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার বদলে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পুলিশের আচরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক যে রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়াতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এর পাশাপাশি খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড গঠন নিয়ে পুরনো বিরোধও ফের সামনে এনেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব যাঁদের হাতে ছিল, তাঁরা দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে বোর্ড চালাতে পারেননি। তৃণমূলের বোর্ডকে তৃণমূল সরকারই সরিয়ে দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিকেও তাঁর নিজের দলের লোকজন সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ মন্ত্রীর।

আরও পড়ুন : দুর্গাপুজো ও উরস উৎসব ঘিরে রেলের বিশেষ পরিষেবা, জেনে নিন ট্রেনের রুট
দিলীপ ঘোষের দাবি, বোর্ড পরিচালনা নিয়ে অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এখন আবার আগে সরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিই চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পেতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। দিলীপ ঘোষের মতে, পুরসভার নেতৃত্ব নিয়ে এই ধরনের বারবার রদবদলে সাধারণ মানুষের রায়ের গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। এখন খড়্গপুরের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার।














