বাংলা হান্ট ডেস্কঃ SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করেই এই শংসাপত্রের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। যেখানে আগে মাসে গড়ে ১৪০টিরও কম আবেদন জমা পড়ত, সেখানে গত দেড় মাসে কলকাতা পুরসভায় জমা পড়েছে ১৪ হাজারেরও বেশি আবেদন।
এই বিপুল চাহিদার মাঝেই কোন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) বৈধ এবং কীভাবে তা পাওয়া যাবে, এ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, কোথায় আবেদন করবেন, কী কী নথি লাগবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটাই বা কী? এই সব কিছু বিস্তারিত জানাতেই আজকের এই প্রতিবে।
কোন সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) বৈধ? জানিয়ে দিল কমিশন
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের (Domicile Certificate) বৈধতা নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। নয়া দিল্লি থেকে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকদের দেওয়া শংসাপত্রই বৈধ বলে গণ্য হবে। তাঁরা হলেন –
- জেলাশাসক
- অতিরিক্ত জেলাশাসক
- মহকুমা শাসক
- কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর
এর বাইরে অন্য কোনও সংস্থা বা ব্যক্তির দেওয়া শংসাপত্র এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য হবে না।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আসলে কী?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা আবাসিক শংসাপত্র (Domicile Certificate) হল একটি সরকারি নথি, যা প্রমাণ করে যে কোনও ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। সরকারি চাকরি, শিক্ষা, বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা, অনেক ক্ষেত্রেই এই শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই সার্টিফিকেট পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে নির্দিষ্ট সময় ধরে বসবাস করতে হয়। এই সময়সীমা রাজ্যভেদে আলাদা সাধারণত ৩ বছর থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।
কী কী নথি লাগবে?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের (Domicile Certificate) জন্য আবেদন করতে গেলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হয়। সেগুলি হল—
- স্ব-ঘোষণাপত্র
- পূরণ করা আবেদনপত্র
- পরিচয়পত্র (আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট)
- জন্মের শংসাপত্র
- স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- ঠিকানার প্রমাণপত্র – যেমন
- ব্যাঙ্ক পাসবই
- ভাড়ার চুক্তিপত্র
- বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ইন্টারনেট বিল
কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন দুইভাবে করা যায়।
১) অনলাইন আবেদন : অনেক রাজ্যে ই-ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কিছু রাজ্য যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, সেখানে আলাদা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়।
২) অফলাইন আবেদন : নিচের দপ্তরগুলিতে সরাসরি গিয়েও আবেদন করা সম্ভব।
- তহসিলদার অফিস
- রাজস্ব দপ্তর
- জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস
- মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস
- কালেক্টর বা ডেপুটি কালেক্টর অফিস
- নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র
- রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস
প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে নিয়ে গেলেই সেখানে আবেদন জমা দেওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ BLO-দের নিরাপত্তা নেই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার দাবি কমিশনের
আবেদন খরচ কত?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) তৈরির খরচ রাজ্যভেদে আলাদা হয়। সাধারণত খরচ হয় ১৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কিছু রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেমন উত্তরপ্রদেশ ও নয়াদিল্লিতে কোনও ফি নেওয়া হয় না।












