বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) ফের এক বড় সাফল্যের দোরগোড়ায়। সংস্থার চেয়ারম্যান ড. সমীর ভি কামত সম্প্রতি জানিয়েছেন, উন্নয়নাধীন লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসোনিক মিসাইল বা LRAShM ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একেবারে ‘গেম-চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে চলেছে। তাঁর কথায়, এই মিসাইল শুধু বর্তমান ব্রহ্মোসকে ছাপিয়ে যাবে না, বরং সমুদ্রপথে ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত ডিআরডিও (DRDO)-র হাইপারসোনিক মিসাইল
ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. কামত জানান, LRAShM প্রকল্পে ইতিমধ্যেই দুটি ডেভেলপমেন্ট ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই তৃতীয় ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে। এই পর্যায় শেষ হলে মিসাইলটি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কাছে ইউজার ইভ্যালুয়েশনের জন্য তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে শুরু হবে ধাপে ধাপে ইন্ডাকশনের প্রক্রিয়া। ড. কামতের কথায়, “আমরা এই সিস্টেম নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। এটা আমাদের সার্ভিসগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতায় গুণগত পরিবর্তন আনবে।”
আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত হত্যা? কড়া তদন্ত ডিজিসিএ-র, নির্দেশ বিমান সংস্থার অডিটের
বর্তমান সুপারসোনিক ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইলের সঙ্গে তুলনা টেনে DRDO প্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নতুন এই হাইপারসোনিক মিসাইলের ক্ষমতা অনেক বেশি। যেখানে ব্রহ্মোস ম্যাক ৩, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৩,৭০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম, সেখানে LRAShM হাইপারসোনিক ক্যাটাগরির হওয়ায় ম্যাক ৫-এরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে। কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকের মতে, এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ৮ থেকে ম্যাক ১০ পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল গতির কারণে শত্রুপক্ষের রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়া এই মিসাইলের পক্ষে অনেক সহজ হবে।
রেঞ্জের দিক থেকেও LRAShM অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাল্লা ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা গিয়েছে, যা ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে নৌবাহিনীর নজরদারি ও আঘাত হানার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়াবে। বুস্ট-গ্লাইড আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই মিসাইলে প্রথমে একটি রকেট বুস্টার ব্যবহার করে উৎক্ষেপণ করা হয়, এরপর হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকল নিচু উচ্চতায় ম্যানুভার করতে করতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যায়। এর ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তু, এমনকি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপের মতো বড় নৌ ইউনিটেও আঘাত হানা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:নির্দেশ অমান্য করার ফল! রাজ্যের ৬৮ হাজার সরকারি কর্মীর বেতন বন্ধ করে দিল সরকার
DRDO জানিয়েছে, এই মিসাইল ল্যান্ড ও সি—দু’জায়গা থেকেই উৎক্ষেপণ করা যাবে এবং বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহনে সক্ষম হবে। আপাতত অ্যান্টি-শিপ ভার্সনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, ল্যান্ড অ্যাটাক ভার্সন এখনও প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, অর্থাৎ ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রথমবার প্রকাশ্যে LRAShM-এর ডামি মডেল ও ১২×১২ লঞ্চার প্রদর্শন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাইপারসোনিক অস্ত্র ভারতের অ্যান্টি-অ্যাক্সেস ও এরিয়া ডিনায়াল ক্ষমতাকে অনেক শক্তিশালী করবে এবং চীন ও পাকিস্তানের নৌশক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।












