সীমান্তে বারবার ‘নাক গলাচ্ছে’ পাক ড্রোন! জবাব দিতে মোক্ষম পদক্ষেপ ভারতের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত বরাবর নিম্ন-উচ্চতায় ক্রমবর্ধমান ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে পাকিস্তানি ড্রোনের উপস্থিতি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় এবার এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির মূল কাজ হবে শত্রুপক্ষের ড্রোনের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সেগুলিকে ভূপাতিত করা।

সীমান্তে ড্রোন হুমকি, মোক্ষম জবাব ভারতের (India)

এই নতুন এয়ার কমান্ড সেন্টারগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হবে। সেনা সূত্রে জানা গেছে, এগুলি প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব এবং ৩ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়ন্ত যেকোনো বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। ফলে ছোট থেকে মাঝারি আকারের নজরদারি বা হামলাকারী ড্রোন সহজেই এর রাডারে ধরা পড়বে। সীমান্তের ভিতরে বিদেশি ড্রোন প্রবেশ করলেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্বও এই কেন্দ্রগুলির উপরই থাকবে।

আরও পড়ুন: ‘যে পরিমাণ DA রাজ্য সরকার কর্মীদের না দিয়ে টাকা বাঁচিয়েছে তার পরিমাণ..,’ বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ভারতীয় সেনা ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তুলছে। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর প্রায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। সীমান্তে আগাম শক্তি বৃদ্ধি করতে দুটি রকেট ফোর্স ইউনিট, দুটি রুদ্র ব্রিগেড এবং ২১টি ভৈরব ব্যাটালিয়নও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় আর্টিলারির পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে, যা সীমান্ত প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।

গত জানুয়ারি মাস থেকেই জম্মু ও কাশ্মীর এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানের ড্রোন তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান মূলত নিজস্ব তৈরি শাহপার-২ ও শাহপার-৩ ড্রোন এবং তুরস্কের বয়রক্তর বিটি২ ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি, গোয়েন্দাগিরি, হামলা এবং এমনকি অস্ত্র ও মাদক পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Drone threat at the border, India gives a befitting reply.

 

আরও পড়ুন: আচমকাই পরিকল্পনায় বদল! ভারতের জন্য বরাদ্দ করা জমিতে কী তৈরি করতে চলেছে বাংলাদেশ?

চলতি বছরের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই সাম্বা, রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলার সীমান্তে একাধিকবার পাকিস্তানি ড্রোনের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ভারতীয় সেনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলি শনাক্ত করে গুলি চালিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই এয়ার কমান্ড সেন্টার ও ব্যাপক ড্রোন মোতায়েন পাকিস্তানের অস্বীকৃত যুদ্ধের এই কৌশলের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আক্রমনাত্মক ও কার্যকর করে তুলবে।