বাংলায় ফের বড় নির্বাচন! ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথের

Published on:

Published on:

Education Minister Jagannath Chattopadhyay drops hint about student union election

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর মাঝেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay)। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের আগে কলেজগুলিতে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি। বর্ধমানে একাধিক বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

কী পরিকল্পনা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর (Jagannath Chattopadhyay)?

ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে নারাজ রাজ্য সরকার। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে কলেজে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে যে অনিয়ম তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার উপরেই আপাতত জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার থাকবে পড়ুয়াদের হাতেই। অথচ যাঁদের ভোট দেওয়ার কথা, তাঁরাই যদি নিয়মিত কলেজে না আসেন, তাহলে নির্বাচনের উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত দেড় দশকে কলেজের পঠনপাঠনের পরিস্থিতি ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। কোথাও শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কোথাও আবার নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ছবিটা বদলাতে হলে প্রথমে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিলে স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে তাঁর ধারণা। সেই পরিবেশ তৈরি হওয়ার পরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Education Minister Jagannath Chattopadhyay drops hint about student union election

শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের বিরুদ্ধেও নিজের মত জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকতার পেশার সঙ্গে সক্রিয় দলীয় রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলার প্রবণতা শিক্ষার পক্ষে ক্ষতিকর। বামফ্রন্টের শাসনকালে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই শিক্ষকদের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব অর্থাৎ পড়ানো এবং শিক্ষা সংক্রান্ত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। এই পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয় বলেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ধরে এগোনোর কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন : রেল পেনশনভোগীদের লাইফ সার্টিফিকেট জমায় নতুন নিয়ম, জানুন পদ্ধতি

অন্যদিকে, রাজ্যের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ও শিক্ষক সংখ্যার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম। এই সমস্যা দূর করতে স্কুলে ৩৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতে মোট কতগুলি পদে নিয়োগ করা হবে, সেই সংখ্যা মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুধু শূন্যপদ পূরণ করলেই শিক্ষার মান উন্নত হবে না, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির কাজের ধরনেও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এমন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে গবেষকরা নতুন আবিষ্কার করতে পারবেন এবং তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেটেন্ট অর্জনের সুযোগ পাবেন। বর্ধমান থেকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেল। ছাত্র সংসদ নির্বাচন আপাতত পিছিয়ে রেখে কলেজে নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে।