বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বকেয়া সাম্মানিক এখনও মেটায়নি রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে বারবার টাকা রিলিজ করার অনুরোধ জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে কয়েক মাস ধরে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে বিএলও কর্মীদের মধ্যে।
কত টাকা বকেয়া?
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের শেষেই জানানো হয়েছিল যে বিএলওদের পারিশ্রমিক বাবদ রাজ্যের কাছ থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের অর্থ দপ্তরও সেই টাকা আটকে রাখায় বিএলওদের পারিশ্রমিক দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ডিসেম্বর মাসেও টাকা না আসায় পারিশ্রমিক মেটানো যায়নি।
নবান্নে চিঠি পাঠালো কমিশন (Election Commission)
এরপর কমিশনের (Election Commission) তরফে প্রথম চিঠি পাঠানো হয় নবান্নে। তাতেও সাড়া না মেলায় দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়া হয়। পরে রাজ্য সরকার ৬১ কোটি টাকা ছাড়ে। সেই টাকা দিয়েই প্রায় ৯৫ হাজার বিএলও-কে সাম্মানিক দেওয়া হয়। কিন্তু বাকি অর্থ এখনও পাওয়া যায়নি। প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও অবশিষ্ট টাকা না আসায় নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বেড়েছে পারিশ্রমিক, তবুও মিলছে না টাকা
এ বছর বিএলওদের পারিশ্রমিক প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে তাঁরা বছরে ৬ হাজার টাকা পেতেন, এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। বিশেষ ভাতা মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার টাকা পাওয়ার কথা তাঁদের। বিএলও সুপারভাইজারদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৮১ হাজার বিএলও কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ, কমিশনের(Election Commission) তরফে বরাদ্দ অনুমোদন হয়ে গেলেও রাজ্যের অর্থ দপ্তরও টাকা না ছাড়ায় তাঁরা প্রাপ্য সম্মানিক পাচ্ছেন না।
বিএলওদের কাজ কী?
ভোটার তালিকা সংশোধন ও পর্যালোচনার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিএলওরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা, পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহ করা এবং তা কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদেরই কাঁধে থাকে। এই কাজের জন্যই কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। সম্প্রতি এসআইআর (Special Summary Revision)-এর সময় ভোটারদের তথ্য অনলাইনে আপডেট করার কাজও বিএলওদের করতে হয়েছে। অনেক কর্মীর অভিযোগ, এই কাজ করতে গিয়ে তাঁদের নিজের মোবাইল ডেটা খরচ হয়েছে। অনেকের স্মার্টফোন না থাকায় নতুন করে ফোন কিনতে হয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা বিশেষ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এত কাজ করার পরেও সময়মতো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বিএলওদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে থাকায় আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন বহু কর্মী। কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজ্যের তরফে টাকা রিলিজ না হওয়ায় জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নতুন চিঠির পর রাজ্য সরকার কবে বকেয়া অর্থ ছাড়ে এবং বিএলওরা কবে তাঁদের প্রাপ্য সাম্মানিক হাতে পান।













