বাংলা হান্ট ডেস্ক: বঙ্গজুড়ে এসআইআর আবহ। এই এসআইআর এর কাজে ঢিলেঢালা নয়। এবার কোনরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এমনটাই নির্দেশ দিল দিল্লির নির্বাচন সদন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গকে সামনে রেখে এই হুঁশিয়ারি বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সূত্রের খবর, বিএলওদের কাজের গাফিলতি বা নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করা যেতে পারে। সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক কে চিঠি পাঠিয়ে তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।বিএলওরা ঠিকমত কাজ না করলে কি কি শাস্তি মূলক পদক্ষেপ করা যেতে পারে তা বিস্তারিত উল্লেখ করা রয়েছে দু পাতার চিঠিতে।
বিএলও-দের গাফিলতিতে মামলা, কমিশনের নির্দেশ (Election Commission)
এসআইআর কাজের গাফিলতিতে কমিশনের (Election Commission) তরফ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কাজে গাফিলতি, দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করা, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা অথবা আইন বা নিয়ম ভাঙা এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে বিএলও-দের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি কোন বিএলওর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠলে কি করনীয়। তাও স্পষ্ট করে দেওয়া আছে ওই চিঠিতে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই মুহূর্তে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। যাকে বলা হচ্ছে এসআইআর (SIR)। সূত্রের খবর, সেই কাজের মাঝেই বিএলওদের দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন।
ওই চিঠিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী বিএলওরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ কর্মচারী। তাঁদের দায়বদ্ধতা একমাত্র কমিশনের প্রতিই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় কমিশনের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে নিজের মতো করে কাজ করছেন তারা। পাশাপাশি যদি কোনও বিএলও এই ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতিতে যুক্ত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক যিনি পদাধিকার বলে জেলাশাসক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা ও এফআইআর দায়ের করার মতন পদক্ষেপ করতে পারবেন।
এই দু’পাতার চিঠিতে এটাও বলা হয়েছে, সিইও যা নির্দেশ দেবেন সেই মতোই কাজ করতে হবে ডিইও কে। সিইওর অনুমতি ছাড়া এই ধরনের শাস্তি মূলক পদক্ষেপে নিষ্পত্তি করা যাবে না। সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে। তবে কমিশনের এই নির্দেশিকার পরে ভোট কর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল জানান, বিএলওরা যেহেতু তৃণমূল স্তরে কাজ করছেন তাই সব দায়িত্ব তাদের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা তো উপরতলার নির্দেশ পালন করছেন। তিনি আরও জানান, মূল সমস্যা হচ্ছে ইআরও এবং এসআইআর দের নিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটা নিয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) উচ্চবাচ্চ করছেন না কেন।












