বাংলা হান্ট ডেস্ক: তারাপীঠে গিয়ে মায়ের দর্শন করা হল না আর। শুক্রবার সাত সকালে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরে শোকের ছায়া নেমে এল। চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলার। এই ঘটনায় যথারীতি চাঞ্চল্যে সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, ট্রেনে ওঠার সময় প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের কামরার ফাঁকে গলে যান ওই মহিলা। তার ওপর দিয়ে চলে যায় ট্রেনের চাকা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।
প্ল্যাটফর্মের ফাঁক গলে পড়ে মৃত্যু, তারাপীঠগামী যাত্রায় বিপর্যয় (Jalpaiguri)
মৃত মহিলার নাম অঞ্জনা ধর। সূত্রের খবর তিনি জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহর সংলগ্ন অরবিন্দ নগরের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল বীরভূমের তারাপীঠের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে বঙ্গে ছুটি আমেজ। ২৬ জানুয়ারির সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস। সেইদিন জাতীয় ছুটি।

আরও পড়ুন: প্রকৃতির কোলে এক নিঃশব্দ সকাল উপভোগ করতে পৌঁছে যান টুমলিংয়
মাঝখানে শনি ও রবিবার পড়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে শুক্রবার পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে জলপাইগুড়ি থেকে তারাপীঠে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সে মতোই সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। ঐদিন সকালে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন হলদিবাড়ি থেকে ট্রেনে ওঠার কথা ছিল ওই পরিবারের। কলকাতা গামী সুপারফাস্ট ট্রেনে তাদের তারাপীঠে যাওয়ার কথা ছিল। সম্ভবত স্বামী ও স্ত্রীর স্টেশনে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল।
ট্রেন ছেড়ে দেওয়া মুখে স্টেশনে পৌঁছে ছিলেন তারা। ট্রেন ধীরগতিতে প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে শুরু করেছিল। স্বামী স্ত্রী ট্রেন ধরতে দৌড়াতে শুরু করেন। চলন্ত ট্রেনের দরজা দিয়ে স্বামীকে তুললে দিয়েছিলেন। এরপর চলন্ত ট্রেনে নিজেও ওঠার চেষ্টা করেছিলেন অঞ্জনা ধর। তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি।
ট্রেনে ওঠার সময় পা হড়কে পড়ে যান তিনি। প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের হাতল ধরে তিনি বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। এদিকে ট্রেনের গতি ও কিছুটা ততক্ষণে বেড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় যথারীতি ট্রেন ও প্লাটফর্মে থাকা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এবং এই ঘটনায় আর্তনাদ করেন অনেকেই। পাশাপাশি তাকে বাঁচানোর জন্য অনেকেই ছুটে যায়। তবে ট্রেনের কামরা ও প্ল্যাটফর্ম এর ফাঁকে গলে তিনি লাইনে পড়ে যান। ট্রেনের চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। যাত্রীরা দ্রুত ট্রেনের চেন টানলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছিল। ট্রেনে চাকা তার শরীরে ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বছর ৪২ এর অঞ্জনার। এই ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও এই ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে রেলের পুলিশ (Jalpaiguri)।

















