মমতার অভিযোগের পাল্টা, নির্দেশ অমান্যে রাজ্যকে কড়া চিঠি কমিশনের

Published on:

Published on:

Election Commission Sends Stern Notice to West Bengal Chief Secretary
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং কটাক্ষ করে কমিশনকে “হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন” বলেও আখ্যা দেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের নির্দেশ মানা হয়নি এই অভিযোগ তুলে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।

কী অভিযোগ কমিশনের (Election Commission)?

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অভিযোগ, রাজ্য সরকার কমিশনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এখনও কার্যকর করেনি। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যেসব আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্দেশ এখনো মানা হয়নি। বিশেষ করে বসিরহাট–২ ব্লকের বিডিও তথা এইআরও সুমিত্র প্রতিম প্রধানকে বরখাস্ত করার নির্দেশ কার্যকর না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কমিশন। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সুমিত্র প্রতিম প্রধান সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নিজের উদ্যোগে অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগ করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ এখনও ঝুলেই রয়েছে বলে অভিযোগ।

এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) আরও অভিযোগ, কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনজন ইলেক্টোরাল রোল অবজারভারের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়নি। এমনকি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এসডিও (SDO) বা এসডিএম (SDM) স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ঠিকভাবে নিয়োগ করা হয়নি। কমিশনের দাবি, এই বিষয়গুলিও সরাসরি তাদের নির্দেশের পরিপন্থী।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ওই দিনের বিকেল ৩টার মধ্যে সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে গোল্লা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী’, মমতার ‘সওয়াল’কে পালটা কটাক্ষ শুভেন্দুর

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং কমিশনের (Election Commission) পাল্টা কড়া পদক্ষেপ, এই দুই ঘটনায় রাজ্য-কমিশন সংঘাত যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।