বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছিলেন ধৃত ব্যবসায়ী কিরণ খাঁ। সেই ফোন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা ED (Enforcement Directorate)। এই পরিস্থিতিতে আদালত কিরণকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
কী জানিয়েছে ED (Enforcement Directorate)?
বুধবার আদালতে তদন্তকারী সংস্থা (Enforcement Directorate) জানায়, ভাঙা মোবাইল ফোনের তথ্য এই মামলার তদন্তে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ইতিমধ্যেই ওই ফোন থেকে কিছু চ্যাট হিস্ট্রি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের রেটচার্টের উল্লেখ মিলেছে বলে দাবি ইডির। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি মেট্রিক টন কয়লায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু সেই টাকা ডোনেশনের অর্থ হিসেবে দেখানো হত। অর্থাৎ কালো টাকা বৈধ দেখানোর চেষ্টা চলত বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঝাড়খণ্ডের খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা তুলে তা বাংলায় এনে বিক্রি করার ব্যবসা চালাতেন মামা–ভাগ্নে চিন্ময় খাঁ ও কিরণ খাঁ। দুর্গাপুরের বাসিন্দা চিন্ময় এবং রানিগঞ্জের বাসিন্দা কিরণ-সহ আরও পাঁচজন শিল্পাঞ্চলে একটি কয়লা সিন্ডিকেট চালাতেন। প্রভাব এতটাই ছিল যে খনি এলাকার লোকেরা তাঁদের ‘বাদশা’ নামে ডাকতেন। জানা যাচ্ছে, বাম আমল থেকেই এই সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল।
এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর–আসানসোল এলাকায় মোট ৪৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পরে আরও সাতটি মামলা যুক্ত হয়। কিছুদিন আগে ইডি এই মামলার তদন্ত শুরু করে এবং কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় তল্লাশি চালায়। এরপর চিন্ময় ও কিরণকে সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।

আরও পড়ুনঃ কয়লা পাচারে পুলিশের একাংশ জড়িত? ভোটের আগে বিস্ফোরক দাবি অনুব্রত মণ্ডলের
তদন্তে সহযোগিতা না করায় দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে তাঁদের পাঁচ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক চিন্ময় মণ্ডলকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইডি হেফাজতে এবং তাঁর ভাগ্নে কিরণ খাঁকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, ভাঙা মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষা শেষ হলে কিরণকে ফের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে ইডি (Enforcement Directorate) বলে সূত্রের খবর।

















