বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাণিজ্যে পড়তে শুরু করেছে। তেল-গ্যাসের পর এবার দুধ সঙ্কটেরও (Milk Crisis) আশঙ্কা। মধ্য প্রাচ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক পণ্যের দামেও ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহে বিরাট বড় ধাক্কা লেগেছে। এই পথ দিয়ে ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশে তেল ও গ্যাস পৌঁছয়। সেই সরবরাহে বাধা পড়ায় ভারতে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দেশের ডেয়ারি শিল্প, কারণ জ্বালানির ঘাটতির প্রভাব এবার দুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উপরও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাবে এবার ভারতে দুধ সঙ্কটের (Milk Crisis) আশঙ্কা!
ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দুধ সরবরাহে কিছুটা ভাঁটা পড়তে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে এই সমস্যার প্রভাব তুলনামূলক বেশি বলে জানা যাচ্ছে। প্রথম নজরে দুধের সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে দুধ প্যাকেটজাত করার প্রক্রিয়াই বাধার মুখে পড়ছে। দুধের প্যাকেট ও কার্টুন তৈরির জন্য যে শিল্পগুলি কাজ করে, তারা পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
আরও পড়ুন:পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবে পার্সেল! মঙ্গলবার বিশেষ পরিষেবা চালু করছে সরকার
প্যাকেট ও কার্টুন উৎপাদনকারী একাধিক কারখানা জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে দুধ প্যাকেটজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দুধের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় সরবরাহে অনিয়মিততা দেখা দিয়েছে বলে।
অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্পেও। এলপিজি সরবরাহে ঘাটতির কারণে অনেক ছোট হোটেল ও রেস্তরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বা তাদের মেনুতে কাটছাঁট করতে হয়েছে। ফলে দুধের বাণিজ্যিক চাহিদাও কিছুটা কমেছে। এর জেরে স্থানীয় ডেয়ারি খামারগুলিকে অনেক সময় কম দামে গরু ও মহিষের দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দশ দিনের মধ্যেই ডেয়ারি শিল্প বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে পারে। এই প্রভাব ধীরে ধীরে অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বর্ষার আগেই জালে উঠল কেজি কেজি পেল্লাই আকারের ইলিশ, কত দামে বিকোচ্ছে জানেন?
তবে পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের দাবি, দেশে অভ্যন্তরীণভাবে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে এলপিজি বোঝাই দুটি ট্যাঙ্কার আসছে, যাতে প্রায় ৯২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি গ্যাস রয়েছে। এই জ্বালানি পৌঁছে গেলে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলিতে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।












