বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নতুন বছরের শুরুতেই ট্রাফিক আইন (Traffic Law) আরও কড়া করল কেন্দ্র। বারবার ট্রাফিক আইন ভাঙলে এবার সরাসরি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িক ভাবে বাতিল হতে পারে। সদ্য সংশোধিত মোটর ভেহিকেল রুলস অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলেই এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খুলে গেল। বুধবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিয়ম ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বছরে পাঁচবার আইন ভাঙলেই লাইসেন্স বাতিল (Traffic Law)?
নতুন নিয়মে (Traffic Law) স্পষ্ট বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে মোটর ভেহিকেল আইনের অন্তত পাঁচটি ধারা লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স রাখার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সেই ক্ষেত্রে লাইসেন্স কতদিনের জন্য সাসপেন্ড হবে, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করার আগে চালককে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে,এ কথাও বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, আগের বছরের কোনও অপরাধ এই গণনার মধ্যে ধরা হবে না। কেবলমাত্র চলতি এক বছরের মধ্যে নথিভুক্ত হওয়া অপরাধই হিসেবের আওতায় আসবে।
্কোন কোন অপরাধে কড়া ব্যবস্থা?
বর্তমানে মোট ২৪টি ট্রাফিক অপরাধকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক বছরের মধ্যে যে কোনও পাঁচটি অপরাধ ঘটলেই লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে—
- অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো
- হেলমেট বা সিটবেল্ট না পরা
- ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা
- প্রকাশ্য রাস্তায় বেআইনি পার্কিং
- অতিরিক্ত বোঝা বহন
- গাড়ি চুরি
- সহযাত্রীদের সঙ্গে হিংসাত্মক আচরণ
এছাড়া ছোটখাটো অপরাধ হলেও সংখ্যাটি পাঁচে পৌঁছলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। লাইসেন্স সাসপেন্ড হবে কি না এবং কতদিনের জন্য, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর (RTO) বা জেলা পরিবহণ দপ্তর (DTO)।
আগে সাধারণত ধাপে ধাপে তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের জন্য লাইসেন্স বাতিল হত এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা হত একাধিক কাগুজে চালান কাটার পরে। নতুন ব্যবস্থায় (Traffic Law) ই-চালানই যথেষ্ট লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য। পুলিশকর্তাদের মতে, এই নিয়ম চালু হলে বারবার আইন ভাঙার সুযোগ কার্যত কমে যাবে। তবে তাঁদের সতর্কবার্তা, পরিষ্কার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর ও শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো না থাকলে সাধারণ চালকদের অকারণে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
বকেয়া টোল থাকলে বন্ধ হবে পরিষেবা
ট্রাফিক আইন (Traffic Law) কড়া হওয়ার পাশাপাশি টোল বকেয়া থাকলেও বড়সড় সমস্যায় পড়তে পারেন গাড়ির মালিকরা। সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬ অনুযায়ী, বকেয়া টোল থাকলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ ২১ জানুয়ারি নয়, নতুন তারিখ ঘোষণা! উচ্চ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে জরুরি আপডেট জানুন
‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ মিলবে না
টোল না দিলে আন্তঃরাজ্য গাড়ি স্থানান্তরের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণ বন্ধ থাকবে এবং বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিটও আটকে যাবে। নতুন নিয়মে (Traffic Law) ‘টোল বকেয়া’-র সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, কোনও গাড়ি টোল প্লাজা পার হওয়ার পর ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টাকা না কাটলেও, সেই অর্থ বকেয়া হিসেবেই ধরা হবে। কেন্দ্রের দাবি, এই ব্যবস্থায় জাতীয় সড়কে টোল ফাঁকি অনেকটাই রোখা সম্ভব হবে।












