বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতকে নিয়ে ফের একবার বিতর্কিত মন্তব্য পাকিস্তানের (Pakistan) তরফ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার আবহে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন হাইকমিশনার আবদুল বসিত। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের উপর হামলা চালায়, তবে ইসলামাবাদের উচিত ভারতের উপর পরমাণু হামলা চালানো। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সর্বত্রই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ফের ভারতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য পাকিস্তানের (Pakistan) প্রাক্তন হাই কমিশনারের
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বসিত একটি কাল্পনিক দৃশ্যপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি ইরানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং ইজরায়েল বা আমেরিকা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেটি এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ পাকিস্তানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুন:শৈশবে ক্ষীণ হতে থাকে দৃষ্টিশক্তি! অটো চালিয়ে পড়িয়েছেন বাবা, ২ বার UPSC-তে সফল হলেন অজয়
তবে এর পরেই তাঁর মন্তব্য আরও বিতর্ক উসকে দেয়। বসিত বলেন, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পাকিস্তান সরাসরি আমেরিকাকে আঘাত করতে পারবে না। সেই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে ভারতের উপর আঘাত হানার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি আমেরিকা পাকিস্তানে হামলা চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বা ইজরায়েলে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তাহলে ভারতের উপর হামলাই একমাত্র বিকল্প হতে পারে।
এই মন্তব্য সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতীয় নেটিজেনরা তীব্র কটাক্ষ করে নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ অতীতের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ সরাসরি তাঁর মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকে এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন: রেশন কার্ডধারীদের জন্য বড় ঘোষণা কেন্দ্রের! একসঙ্গে মিলবে ৩ মাসের খাদ্যশস্য
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ ধরনের মন্তব্য শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এটি কোনও সরকারি অবস্থান নয়, তবুও একজন প্রাক্তন কূটনীতিকের মুখে এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল (Pakistan)।












