বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি (Fuel Crisis) সরবরাহে বিরাট ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তৈল ধমনী হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতে।
জ্বালানি সঙ্কটে (Fuel Crisis) নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা!
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহণ খরচও বাড়ছে, যার জেরে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও। ভারত-সহ একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনুভূত হচ্ছে। শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্য নিরাপত্তাও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সার এবং অন্যান্য উপকরণের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়েই আসে। দীর্ঘদিন এই পথ বন্ধ থাকলে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হবে, যার ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তার প্রভাব পড়বে।
আরও পড়ুন:আমেরিকা পাকিস্তানে আক্রমণ করলে ভারতে পরমাণু হামলার ‘পরামর্শ’, অদ্ভুত দাবি প্রাক্তন পাক হাইকমিশনারের
এই পরিস্থিতিতে বিমান পরিবহণ সংস্থা গুলিতেও বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যেই চলতি সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিও একই পথে হাঁটছে। এর ফলে বিমানযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। একাধিক দেশের সরকার নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে, যা অনেকটা কোভিড সময়ের নির্দেশিকার মতোই।
এদিকে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে, বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারও নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলেছে। ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি নির্ভর এবং তার বড় অংশ আসে এই প্রণালী দিয়ে। ফলে এই সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকে বড় বদল! আয়কর আইনে নতুন নিয়মে বদলে যাবে PF-HRA, কী প্রভাব পড়বে আপনার বেতনে?
এই আবহে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। যেমন বিকল্প দিনে গাড়ি ব্যবহার, হাইওয়েতে গতি কমানো, অপ্রয়োজনীয় বিমান সফর কমানো, গ্যাসের বদলে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা ব্যবহার এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর মতো প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপগুলি কার্যত কোভিড-পরবর্তী ‘লকডাউন সদৃশ’ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সরকারগুলি একে জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।












