বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর বহুল প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে। যার ফলে দাম কমতে পারে বহু জিনিসের (Price Drop)। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে একাধিক আমদানিকৃত ও রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ধাপে ধাপে কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব শুধু বড় শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ ক্রেতা এবং মধ্যবিত্তের উপরও পড়তে পারে। বহু বছর ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সফল হওয়ায় ভারত ও ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
১৫ জুলাই থেকে দাম কমছে (Price Drop) একাধিক জিনিসের:
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম বড় প্রভাব পড়বে ব্রিটেন থেকে ভারতে আমদানি হওয়া বিভিন্ন প্রিমিয়াম পণ্যের ওপর। আমদানি শুল্ক কমার ফলে ভবিষ্যতে স্কচ হুইস্কি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কমতে পারে (Price Drop)। বিশেষ করে ব্রিটিশ স্কচ হুইস্কির ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা উচ্চ আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে হ্রাস পাওয়ায় বাজারে এর মূল্য কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ভর করবে কর, পরিবহন ব্যয়, ডিলার মার্জিন এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর। তবুও এই সিদ্ধান্তকে বিদেশি প্রিমিয়াম পণ্যের বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন:যেকোনও সময় হতে পারেন খুন! আশঙ্কায় রয়েছেন ট্রাম্প, জানালেন, ‘আপনারা আমাকে মিস করবেন’
গাড়ির বাজারেও এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেনের জনপ্রিয় বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির একাধিক মডেল, বিশেষ করে ল্যান্ড রোভারের মতো ব্র্যান্ডের গাড়ির আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় বাজারে এই ধরনের প্রিমিয়াম গাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি অটোমোবাইল সংস্থাগুলির জন্য ভারতের বাজার আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাবে নতুন বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি গাড়ি শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় এবং উৎপাদন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই চুক্তির সুবিধা শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্রিটেনের বাজারেও ভারতীয় তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, গয়না, কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য উৎপাদিত সামগ্রীর রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। শুল্ক কমার ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প সংস্থাগুলির ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি আগামী কয়েক বছরে ভারত-ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন: ফের চালু হবে মৈত্রী এক্সপ্রেস? ঢাকা থেকে রেল মন্ত্রকের কাছে এল আবেদন
১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তুলনামূলক কম দামে (Price Drop) পাওয়ার সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি ভারতীয় শিল্প ও রপ্তানি ক্ষেত্রও নতুন গতি পাবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের প্রসার এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভারত ও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর ১৫ জুলাইয়ের দিকে, যেদিন থেকে এই ঐতিহাসিক চুক্তির বাস্তব প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বাজার ও অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে শুরু করবে।

















