বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম (Fuel Price) বৃদ্ধি নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, গত ছ’দিন ধরে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতেও পেট্রোপণ্যের দাম বাড়বে কি না, সেই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সরবরাহ ব্যাহত হয়, তবে দেশে পেট্রোল-ডিজেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি কালোবাজারির প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
যুদ্ধের আবহেও ভারতে বাড়বে না তেল এবং গ্যাসের দাম! (Fuel Price):
সূত্রে খবর, দেশের অন্দরে তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। দিল্লি একাধিক তেল উৎপাদক দেশ ও বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভারতের শক্তিসম্পদের সরবরাহে কোনও ঘাটতি না হয়। কেন্দ্রের মতে, বর্তমানে তেল আমদানি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:আসামে সুখোই-৩০ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২ পাইলট! শোকপ্রকাশ ভারতীয় বায়ুসেনার
বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই মূলত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। কারণ ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং সেই আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে— এমন আশঙ্কাই ঘুরছিল নানা মহলে। সেই কারণেই যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দিল্লি দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে রাশিয়া থেকে। সূত্রের দাবি, প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল খুব দ্রুতই ভারতে পৌঁছতে পারে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ছাড় দিয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের জন্য ভারত রাশিয়ার জাহাজে থাকা তেল কিনতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়তে পারে DA কমিটির রিপোর্ট, রিভিউ পিটিশনের পথে রাজ্য সরকার?
তবে আশ্বাসের মাঝেও কিছুটা সংশয় রয়েই যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। কারণ সম্প্রতি দেশজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লে ভবিষ্যতে গৃহস্থালির গ্যাস বা অন্যান্য পেট্রোপণ্যের দাম বাড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আপাতত দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।












