বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২০২৩ সালের দক্ষিণ লোনাক লেকে বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও সতেজ থাকতেই ফের উদ্বেগ বাড়ল সিকিমে। পূর্ব সিকিমে (East Sikkim) হিমবাহ ধসের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে ‘ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট’ এবং সিকিমের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাথুলা, জুলুক ও নাথাং ভ্যালি এলাকায় তুষারধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা প্রশাসনকে নতুন করে সতর্ক করে তুলেছে।
পূর্ব সিকিমে (East Sikkim) হিমবাহ ধসের পূর্বাভাস
এই সতর্কবার্তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সিকিমে এমন কোনও হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেনি। ফলে আচমকা এই পূর্বাভাস প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গ্যাংটক ও পাকিয়ং জেলার প্রশাসনকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীও পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: পেট ঠাণ্ডা রাখবে, খেতেও দুর্দান্ত, দেখে নিন দই চিকেনের সহজ রেসিপি
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ একাধিক প্রাকৃতিক প্রভাবের সম্মিলন। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমি ঝঞ্ঝার যুগপৎ প্রভাবে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও তুষারপাত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে সিকিম, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। উত্তর সিকিমের লাচুং ও লাচেনে যেমন প্রবল তুষারপাত হয়েছে, তেমনই পূর্ব সিকিমের নাথুলা, ছাঙ্গু ও জুলুকেও বরফ জমেছে।
এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে পর্যটন ক্ষেত্রেও। সান্দাকফু ও ফালুট এলাকায় তুষারপাতের জেরে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় প্রায় ৫০ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা নিরাপদেই রয়েছেন এবং আবহাওয়া অনুকূল হলেই তাঁদের উদ্ধার করে নিচে নামানো হবে।

আরও পড়ুন: ফের গড়লেন অবিশ্বাস্য রেকর্ড! প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুকুটে যুক্ত হল নতুন পালক
এদিকে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার রাত পর্যন্ত বৃষ্টি ও তুষারপাত চলতে পারে, তবে রবিবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও হিমবাহ ধসের আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। নাথুলার সেনা ছাউনি ও নাথাং ভ্যালির পাহাড়ি গ্রামগুলিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।












