যুদ্ধের আবহে ক্রমশ কমছে সোনা-রুপোর দাম! বিনিয়োগের প্রসঙ্গে কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

Published on:

Published on:

Gold-Silver Price is decreasing gradually in war atmosphere.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: একদিকে যখন যুদ্ধের আবহে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সেই আবহেই সোনা এবং রুপোর দামে (Gold-Silver Price) ক্রমশ পতন পরিলক্ষিত হচ্ছে। শনিবার অর্থাৎ ১৪ মার্চেও সোনার-রুপোর দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এমতাবস্থায়, বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে শক্তিশালী মার্কিন ডলার, বন্ড ইয়েল্ড বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক তীব্র বৃদ্ধির পরে প্রফিট বুকিংয়ের পরিস্থিতি মূল্যবান ধাতুর দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

MCX-এ সোনা ও রুপোর দাম (Gold-Silver Price) কমেছে:

ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) এপ্রিল ২০২৬-এ ডেলিভারির জন্য সোনার দাম প্রায় ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৯,৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এদিকে, মে মাসে ডেলিভারির জন্য রুপোর দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি কেজিতে প্রায় ২,৬৬,০০০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, চলতি মাসের শুরুতে, ইরান সম্পর্কিত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল। যার কারণে সোনা ও রুপোর দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এদিকে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

Gold-Silver Price is decreasing gradually in war atmosphere.

কেন এই পরিস্থিতি: ইতিমধ্যেই মতিলাল ওসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কমোডিটি অ্যানালিস্ট মানব মোদীর মতে, শক্তিশালী ডলার এবং বন্ড ইয়েল্ড বৃদ্ধির ফলে সোনার মতো সুদ-বহির্ভূত বিনিয়োগের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক উত্থানের পর বিনিয়োগকারীরা প্রফিট বুক করেছেন। বাজারের অস্থিরতা বৃদ্ধির ফলে অনেক বিনিয়োগকারী নগদ অর্থ সংগ্রহের জন্য তাঁদের পজিশন হ্রাস করেছেন।

আরও পড়ুন: রোহিত-বিরাট নয়! BCCI-র বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন এই খেলোয়াড়রা

সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে ফেডারেল রিজার্ভের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ রাখতে পারে এমন প্রত্যাশাও জোরদার হয়েছে।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! ১ এপ্রিল থেকেই বাড়ছে বার্ষিক টোল পাসের দাম, এবার হবে কত খরচ?

ভবিষ্যতে এই প্রবণতা কেমন থাকবে: বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পতনকে একটি স্বল্পমেয়াদী সংশোধন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মূলত, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে শুরু করে, মুদ্রাস্ফীতি উদ্বেগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রয়ের মতো বিষয়গুলি দীর্ঘমেয়াদে সোনা ও রূপার দামকে ইতিবাচক রাখতে পারে। তবে, আগামী সময়ে দাম অস্থির থাকতে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ডলার, সুদের হার এবং বিশ্ব বাজারের অবস্থার ওপর নজর রাখছেন।