বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার কারণে রীতিমতো প্রভাবিত হয়েছে সমগ্র বিশ্ব। তবে, এই প্রভাবকেই প্রশমিত করতে ভারত সরকার দেশের (India) শিল্প সেক্টরের জন্য একটি নতুন ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম তৈরি করছে। যার লক্ষ্য হল, কোম্পানিগুলির জন্য ঋণ প্রাপ্তি সহজতর করা। বিশেষ করে সেইসব কোম্পানিগুলি লাভবান হবে যেগুলি কাঁচামাল ও পরিবহণ খরচের বৃদ্ধির সম্মুখীন। ET-র একটি রিপোর্ট অনুসারে, এই প্রকল্পের অধীনে সরকার প্রায় ২ থেকে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার গ্যারান্টি প্রদান করতে পারে। এটি আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে চালু করা হতে পারে। উল্লেখ্য যে, সরকার ইতিমধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করছে।
দেশের (India) শিল্পের জন্য ২.৫ লক্ষ কোটির স্কিমের পরিকল্পনা কেন্দ্রের:
কী জানা গিয়েছে: একজন সরকারি আধিকারিকের মতে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হল কোম্পানিগুলিকে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা প্রদান করা। তিনি জানান, যদিও পরিস্থিতি খুব একটা গুরুতর নয়। কারণ, সরকার অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আধিকারিকরা কোম্পানিগুলির উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে কোম্পানিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়াও, কোম্পানিগুলিকে বলা হয়েছে যে যদি কোনও বড় সমস্যা হয়, তাহলে তারা যেন অবিলম্বে সরকারকে জানায়।

এই পরিকল্পনাটি ECLGS-এর অনুরূপ: জানিয়ে রাখি যে, এই নতুন প্রকল্পটি করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর সময়কার ECLGS প্রকল্পের অনুরূপ হতে পারে। এই প্রকল্পের অধীনে, MSME সহ একাধিক ব্যবসা নগদ অর্থের ঘাটতি মেটাতে বিনা গ্যারান্টিতে ঋণ পেতে পারে। রিপোর্ট অনুসারে, ঋণখেলাপির হার এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। তবে কিছু সেক্টর বিশেষ করে রফতানি-সম্পর্কিত শিল্পগুলি চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই, এই পদক্ষেপটি সঠিক সময়েই নেওয়া হচ্ছে। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন: বেঙ্গালুরুতে তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন ‘B28’, কবে শুরু পরিষেবা? জানাল রেল মন্ত্রক
করোনা চলাকালীনও একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছিল: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনা চলাকালীন চালু হওয়া ECLGS প্রকল্পের অধীনে সরকার মোট ৩.৬২ লক্ষ কোটি টাকার গ্যারান্টি প্রদান করেছিল। যার ফলে প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ ব্যক্তি ও সংস্থা সরাসরি উপকৃত হয়েছে। গড়ে প্রতিটি অ্যাকাউন্ট প্রায় ৩ লক্ষ টাকার গ্যারান্টি কভার পেয়েছে। যা এই কঠিন সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলিকে উল্লেখযোগ্যভাবে স্বস্তি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: KKR-এর বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল শব্দের ব্যবহার! অভিষেক শর্মার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ BCCI-র
এদিকে, এই প্রকল্পের প্রভাব MSME সেক্টরেও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। একটি রিপোর্ট অনুসারে, প্রায় ১.৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ NPA তথা ঋণখেলাপী হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। যা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়েছে। এছাড়াও, ১৩.৫ লক্ষেরও বেশি MSME ইউনিট বন্ধ হওয়ার হাত থেকে বেঁচেছে। যা এই প্রকল্পের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।












