বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে বদলে যেতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ব্যবহারের ধরন! বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে। অনলাইন দুনিয়ায় ভুয়ো প্রোফাইল, পরিচয় চুরি, সাইবার হয়রানি ও অপরাধ দ্রুত বাড়তে থাকায় ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে বাধ্যতামূলক KYC যাচাই এবং বয়স যাচাই কঠোর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা, লগইন করা কিংবা ব্যবহার, সব ক্ষেত্রেই বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) KYC বাধ্যতামূলক করার পথে কেন্দ্র
এই সুপারিশ উঠে এসেছে সংসদের মহিলা কমিটির ২০২৫-২৬ সালের চতুর্থ রিপোর্টে, যা ইতিমধ্যেই লোকসভা এবং রাজ্যসভা, দুই কক্ষেই পেশ করা হয়েছে। রিপোর্টে ডিপফেক মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ফরেনসিক ক্ষমতা জোরদার করা এবং সাইবার অপরাধের ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং ও গেমিং অ্যাপে বাধ্যতামূলক KYC চালুর প্রস্তাব।
আরও পড়ুন: ২৫০ টাকার মোম থেকে ৪০ লক্ষ টার্নওভার! স্টার্টআপেই চমকে দিলেন কলকাতার শ্রুতি
সূত্রের খবর, ভুয়ো পরিচয়ে বারবার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য KYC যাচাই অপরিহার্য। শুধু একবার নয়, নির্দিষ্ট সময় অন্তর রি-ভেরিফিকেশন করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব অ্যাকাউন্ট বারবার অভিযোগের মুখে পড়ছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে বলে মনে করছে কমিটি।
সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধের ধরন বদলানোর পাশাপাশি বেড়েছে অপরাধের পরিমাণও। ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে প্রতারণা, পরিচয় চুরি, সাইবারস্টকিং এবং ব্যক্তিগত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি উদ্বেগজনক যথেষ্ট হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের খুঁজে বের করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে প্রকৃত পরিচয়ের কোনও সংযোগ থাকে না। তাই KYC বাধ্যতামূলক করলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পরিচয় দিতে লাগবে প্রমাণ! লোকসভায় নতুন বিলে কেন ক্ষোভে ফুঁসছে রূপান্তরকামীরা?
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাধ্যতামূলক KYC মানে আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, যা ডেটা লিক বা নজরদারির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের। পাশাপাশি দেশের অনেক মানুষের কাছে এখনও বৈধ পরিচয়পত্র নেই, ফলে কঠোর নিয়ম চালু হলে তারা ডিজিটাল পরিষেবা থেকে বাদ পড়তে পারেন। আপাতত এই প্রস্তাব কেবল সুপারিশ পর্যায়েই রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়িত হলে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া (Social Mব্যবহারের ধরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।












