বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রূপান্তরকামীদের অধিকার নিয়ে দেশে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কারণ, লোকসভায় পেশ হতে চলেছে এমন একটি সংশোধনী বিল (Transgender Bill), যেখানে নিজের পরিচয় নিজে দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাব সামনে আসতেই একদিকে সরকারের যুক্তি, অন্যদিকে রূপান্তরকামী সংগঠনগুলির তীব্র আপত্তি, সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জাতীয় স্তরে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
নতুন বিলে (Transgender Bill) কী বলা হয়েছে?
লোকসভায় খুব শীঘ্রই পেশ হতে চলেছে ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’। প্রস্তাবিত এই আইনে বড় বদল আনা হচ্ছে। নতুন আইন (Transgender Bill) বলা হয়েছে কোনও ব্যক্তি আর নিজে থেকে নিজেকে রূপান্তরকামী বলে ঘোষণা করতে পারবেন না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় পেতে হলে নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
এই প্রস্তাব সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সোশ্যাল জাস্টিস মন্ত্রকের দাবি, বর্তমানে রূপান্তরকামীদের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় অনেক ভুয়ো দাবিদার সুবিধা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা নানা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেই কারণেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে বলে সরকারের বক্তব্য।
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ রূপান্তরকামী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, এই বিল (Transgender Bill) কার্যকর হলে বরং অধিকার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে। স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে জটিল করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারই খর্ব করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। অনেক সংগঠনই বলছে, লিঙ্গ পরিচয়ের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে এভাবে শর্ত আরোপ করা ঠিক নয়। বিল ঘিরে ক্ষোভ শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, রাস্তায় নেমেও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই আইন চালু হলে রূপান্তরকামীদের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে যাবে এবং নিজেদের পরিচয় জানানোর অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।

আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরে ভোটার কমে ১ লাখ ৬০ হাজার, সমীকরণ বদলাতেই বড় জয়ের ইঙ্গিত শুভেন্দুর, কী বললেন?
বাংলাতেও সেই প্রতিবাদের আঁচ পড়েছে। আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় সোমবার প্রায় ৫০ জন রূপান্তরকামী অধিকারকর্মী পথে নামেন। বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি বিলের কপি পোড়ানো হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই আন্দোলন। তাঁদের দাবি, সরকারকে এই সংশোধনী (Transgender Bill) নতুন করে ভাবতে হবে এবং পুনরায় সংশোধন করতে হবে।












