বাংলাহান্ট ডেস্ক: ম্যানেজারের কাছ থেকে ছুটি চাইতে বিরক্ত লাগতো বলে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে কোটি টাকার সফল (Success Story) ব্যবসা দাঁড় করিয়ে দিলেন কলকাতার শ্রুতি কুন্দন। শ্রুতি এক সময় একসময় কর্পোরেট ফিনান্স অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। গুরুগ্রামে জেনপ্যাক্ট, টিসিএস এবং Accenture-এর মতো শীর্ষ সংস্থায় তাঁর পেশাগত জীবন কাটলেও, মনের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ক্রমশ জোরালো হচ্ছিল। “কবে এমন দিন আসবে, যখন ছুটির জন্য কারও অনুমতি নিতে হবে না?”—এই প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নতুন পথে হাঁটার সাহস জোগায়।
শ্রুতি কুন্দনের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
২০২৩ সালে তিনি কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে নিজস্ব উদ্যোগ ‘বোহোলেট’ শুরু করেন। খুব ছোট করেই, নিজের রান্নাঘর থেকেই মাত্র ২৫০ টাকার মোম দিয়ে লাড্ডু আকৃতির মোমবাতি তৈরি করে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। তাঁর প্রাথমিক মূলধন ছিল মাত্র ১১ হাজার টাকা। কিন্তু তাঁর সৃজনশীলতা এবং দৃঢ়তা খুব দ্রুতই ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। গণেশ চতুর্থীর সময় মহারাষ্ট্রে প্রথম ১০০টি মোমবাতি বিক্রি হওয়ায় তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে।
পরবর্তী পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও সাড়া পান শ্রুতি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দুবাই থেকে ৭০০টি মোমবাতির একটি অর্ডার আসে। সেই সময় তাঁর হাতে ছিল মাত্র ১০টি ছাঁচ এবং কাজ চলছিল বাড়ি থেকেই। তবুও নিরলস পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ডার সম্পূর্ণ করেন তিনি। ৯,০০০ টাকার অর্ডার থেকে প্রায় ২০,০০০ টাকা আয় হয়, যা তাঁর ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি সরবরাহকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খরচ কমানোর পথও খুঁজে পান।
ব্যবসা করতে গিয়েই তিনি একটি বড় সমস্যার উপলব্ধি করেন, ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের অভাব। বড় সরবরাহকারীরা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্ডার চাইত, যা ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই সমস্যাকেই সুযোগে পরিণত করে শ্রুতি নিজস্ব ব্র্যান্ডে অল্প পরিমাণে প্যাকেজিং বাক্স বিক্রি শুরু করেন। মাত্র ২০টি বাক্স দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ তাঁর মোট ব্যবসার প্রায় ৮০ শতাংশ আয়ের উৎস। উৎপাদন বাড়াতে তিনি ৬.৫ লক্ষ টাকার সেমি-অটোমেটিক মেশিনও বসিয়েছেন, যা প্রতিদিন ২০,০০০ ইউনিট তৈরি করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন:ভবানীপুরে ভোটার কমে ১ লাখ ৬০ হাজার, সমীকরণ বদলাতেই বড় জয়ের ইঙ্গিত শুভেন্দুর, কী বললেন?
বর্তমানে তাঁর ব্যবসা গুরুগ্রামের পাটৌদিতে ১,২০০ বর্গফুটের একটি গুদামে বিস্তৃত হয়েছে এবং বার্ষিক টার্নওভার ৪০ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছুঁয়েছে। আগামী দিনে এই অঙ্ক আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছেন তিনি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ১ কোটি টাকার ব্যবসা এবং পরবর্তী তিন বছরে তা ৫০ কোটিতে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শ্রুতি। তাঁর লক্ষ্য শুধুমাত্র মোমবাতি ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রসাধনী, সুগন্ধি ও ওষুধ শিল্পের জন্য একটি বড় প্রিমিয়াম প্যাকেজিং হাব তৈরি করা (Success Story)।












