বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির এক কিশোরীর ছোট্ট উদ্যোগে সাফল্যের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী হয়েও নিজের পরিশ্রম ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ছোট্ট একটি ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন গুরলিন। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তিনি হাতে তৈরি গয়না ও নানা ধরনের কাস্টমাইজড পণ্যের কাজ শুরু করেন। আজ তাঁর তৈরি কানের দুল, ডিজাইনার নেম প্লেট, কী-রিং এবং ব্রেসলেটের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। গুরলিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পেজও আছে, যেখানে তাঁর হাতের তৈরি কাজ মানুষ দেখতে পান। নিজের সেই অনলাইন পেজের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত অর্ডারও পান।
গুরলিনের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
গুরলিন মূলত বার্ণিশ শিল্পের অনুপ্রেরণায় হাতে তৈরি বিশেষ ধরনের কানের দুল বানান, যা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনই অনন্য। এই কানের দুলগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এগুলি সম্পূর্ণভাবে কাস্টমাইজ করা যায়। অর্থাৎ ক্রেতারা চাইলেই তাঁদের নিজের নাম বা পছন্দের যেকোনও ডিজাইনও তাতে যুক্ত করতে পারেন। প্রতিটি পণ্য তিনিই নিজে হাতে অত্যন্ত যত্ন সহকারে তৈরি করেন। বিভিন্ন ধাপের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে—গলানো, আকার দেওয়া এবং রোদে শুকানোর মতো কাজ শেষে এই গয়নাগুলি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহেও ভারতে বাড়বে না তেল এবং গ্যাসের দাম! দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র
গুরলিন জানান, নিজের খরচের জন্য বাবা-মায়ের উপর নির্ভর করতে তিনি চাননি। তাঁর বাবা-মা অবশ্যই সব খরচ বহন করতে পারেন, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল তাঁর। তিনি জানান, অনেক মেয়েকে নিজের দক্ষতা দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখে তিনিও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভাবনা থেকেই এই ব্যবসার সূচনা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গুরলিন কোনওরকম তথাকথিত প্রশিক্ষণ নেননি। তিনি মূলত ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখেই এই কাজ শিখেছেন। পথম প্রথম এমন অনেক সময় হয়েছে যে তাঁর এক একটা কাজ সম্পূর্ণ নষ্টও হয়ে যেত, কিন্তু বারবার চেষ্টা করতে করতে ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর কথায়, হাতে একটি স্মার্টফোন থাকলেই শুধু বিনোদনের জন্য ব্যবহার না করে নতুন কিছু শেখার সুযোগও তৈরি হয়। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: রান্নাঘরেও যুদ্ধের প্রভাব? দাম বাড়ছে ভোজ্যতেলের, প্রতি লিটারে বৃদ্ধি কত টাকা?
বর্তমানে গুরলিনের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ রয়েছে, যেখান থেকে শুধু রাঁচি নয়, ঝাড়খণ্ডের গুমলা, জামশেদপুর, ধানবাদ ও বোকারোর মতো বিভিন্ন জেলা থেকেও তাঁর কাছে অর্ডার আসে। পাশাপাশি তিনি সারা ভারতেও অনলাইনে ডেলিভারি করেন। এত অল্প বয়সে নিজের উদ্যোগে সাফল্য অর্জন করতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি। ভবিষ্যতে এই ছোট ব্যবসাকেই আরও বড় করে তুলতে চান গুরলিন।












