বাংলাহান্ট ডেস্ক: বারবার সকলে তাঁকে বলেছিলেন তাঁর দ্বারা কিচ্ছু হবেনা, কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে সাফল্যের (Success Story) চূড়ায় পৌঁছে দেখিয়ে দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের ললিতপুর জেলার এক সাধারণ পরিবারের ছেলে হরিওম শরণ বন্দলে। জীবনের শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। পড়াশোনায় মাঝারি মানের ছাত্র হওয়ার কারণে বহুবার তাঁকে উপহাসের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সেই বিদ্রূপই তাঁর ভিতরের জেদকে আরও শক্ত করে তোলে। অবশেষে কঠোর পরিশ্রমের জোরে এসএসসি সিজিএল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হিসেবে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন।
হরিওম শরণের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
স্কুলজীবনে হরিওমের ফলাফল ছিল বেশ সাধারণ। উত্তর প্রদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দশম শ্রেণিতে তিনি মোট ৭০ শতাংশ নম্বর পেলেও গণিতে পেয়েছিলেন মাত্র ২৪, যা তাকে ফেল করার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। দ্বাদশ শ্রেণিতেও তাঁর ফল ছিল ৬৪ শতাংশের মতো। এই ফলাফল দেখে অনেকেই মনে করতেন, তিনি জীবনে বড় কিছু করতে পারবেন না। চারপাশের এই নেতিবাচক মন্তব্যই তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড নিরাপত্তা! ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোথায় কত? দেখুন তালিকা
কলেজে বি.এসসি পড়াকালীনই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে। আশপাশের অনেকেই যখন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তাঁর বাবার উৎসাহে তিনিও এই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। কলেজ শেষ করার পর থেকেই তিনি নিয়মিত প্রস্তুতি শুরু করেন। সেই সময় তিনি একদিকে যেমন চাষের কাজে পরিবারের পাশে দাঁড়াতেন, তেমনই অন্যদিকে নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যেতেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই—সরকারি চাকরি।
পরবর্তীতে ভালো প্রস্তুতির জন্য তাঁকে শহরে পাঠানো হয়, যেখানে বোনের বাড়িতে থেকে টানা তিন বছর তিনি পড়াশোনা করেন। পরিবারের সমর্থন তাঁর লড়াইকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। যদিও প্রথমদিকে সাফল্য আসেনি। ২০২২ সালে প্রিলিমসে কম নম্বর পেয়ে তিনি ব্যর্থ হন। ২০২৩ সালেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। কিন্তু এই ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং আরও বেশি পরিশ্রমী করে তোলে।

আরও পড়ুন: বদলাবে সংঘাতের সমীকরণ? ৩৩ বছর পর সম্পন্ন হল ইজরায়েল-লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা
অবশেষে ২০২৪ সালে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি প্রিলিমসে ১৬৫ এবং মেইনসে ৩৩৫ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ১৮২ অর্জন করেন। যাঁরা একসময় তাঁকে উপহাস করতেন, তাঁরাই আজ তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। হরিওমের এই সাফল্যের গল্প (Success Story) প্রমাণ করে, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায় থাকলে কোনও বাধাই চূড়ান্ত নয়, আর স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব।












