ডায়াবেটিসের চিন্তা থেকেই আইডিয়া, চাকরি ছেড়ে ২ কোটির ব্যবসা! স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসে বাজিমাত বেঙ্গালুরুর তরুণের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা হর্ষবর্ধন এস এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে তৈরি করেছেন সফল (Success Story) স্টার্টআপ ব্র্যান্ড Lil’ Goodness। ভারতে ডায়াবেটিসের বাড়তে থাকা প্রবণতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই তাঁর উদ্যোগের মূল অনুপ্রেরণা। বন্ধু দমনবীর সিংয়ের সঙ্গে মিলে তিনি এই সংস্থার সূচনা করেন, যা এখন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস এবং পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার ব্যবসা করছে।

হর্ষবর্ধন এসের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি তারা হেলথে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তেলেঙ্গানা সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি চমকে যান। প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষের মধ্যে ২,৬০০ জন গুরুতর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলেও নিজেদের অসুস্থতার বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজে বিপাকজনিত রোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

আরও পড়ুন: শহরে বেড়েছে হকারদের জবরদখল, ভোটের পরেই পদক্ষেপ নেবে পুরসভা

ঠিক সেই সময়ই ব্যক্তিগত জীবনে বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনায় আরও পরিবর্তন আনে। তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর সন্তান যেন শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়। বাজারে সহজলভ্য অধিকাংশ খাবারেই অতিরিক্ত চিনি ও ভেজাল উপাদান থাকায় তিনি বিকল্প খুঁজতে থাকেন। এই অভাব পূরণ করতেই ২০২০ সালে ‘Lil’ Goodness’-এর পথচলা শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যকর খাবারকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা।

এই ব্র্যান্ডের অন্যতম বিশেষত্ব হল স্বাদ ও পুষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রাখা। মাত্র ২০ টাকার মধ্যে ‘প্রিবায়োটিক ডার্ক চকোলেট’ বাজারে এনে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যকর বিকল্প তৈরি করেছেন। পাশাপাশি, কিনোয়া ও টেফের মতো সুপার-গ্রেইন দিয়ে তৈরি স্ন্যাকস এবং ৪০ শতাংশ কম চিনিযুক্ত মিল্কশেকও এই ব্র্যান্ডের জনপ্রিয় পণ্য। শিশুদের আকৃষ্ট করতে প্যাকেজিংয়ে অ্যাভেঞ্জার্স ও ডিজনির চরিত্র ব্যবহার করাও তাঁদের একটি অভিনব উদ্যোগ।

Harshavardhans Success Story will amaze you

আরও পড়ুন: TCS নাসিকে চাঞ্চল্য! ধর্মান্তরণ ও হেনস্তার অভিযোগে দেশজুড়ে বিতর্ক, পলাতক অভিযুক্ত

মাত্র তিন বছরের মধ্যেই এই স্টার্টআপ সফল ভাবে দেশজুড়ে প্রায় ৪,০০০ দোকানে পৌঁছে গিয়েছে এবং ১৬ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে। বর্তমানে সংস্থার বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২০ মিলিয়ন রুপি। পাশাপাশি, ১৯ জন পূর্ণকালীন কর্মী এবং প্রায় ৭০ জন সুবিধাবঞ্চিত মহিলাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটিও বজায় রেখেছেন হর্ষবর্ধন। ভবিষ্যতে তিনি এই ব্র্যান্ডকে ১০,০০০ দোকানে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলের ক্যান্টিনেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যা তাঁর উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাবে।