বাংলা হান্ট ডেস্ক: বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে তীব্র পতন দেখা যায়। যেখানে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে HDFC ব্যাঙ্ক। এই ব্যাঙ্কের শেয়ারের একটা সময়ে প্রায় ৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় একদিনেই মার্কেট ক্যাপ থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মুছে যায়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২০ সালের মার্চের পর এটিই ব্যাঙ্কের শেয়ারে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে, এই পতনের সবচেয়ে বড় কারণ হল ব্যাঙ্কটির পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগ। এদিকে, বাজার বন্ধের সময়ে এই ব্যাঙ্কের শেয়ার ৫.৩২ শতাংশ পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে HDFC ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম দাঁড়িয়ে রয়েছে ৭৯৮.২০ টাকায়।
HDFC ব্যাঙ্ক (HDFC Bank)-এর শেয়ারে বিপুল পতন:
ইতিমধ্যেই অতনু তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন যে, গত ২ বছর ধরে ব্যাঙ্কের কিছু বিষয় এবং কার্যকলাপ তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না। এই কারণেই তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কার্যকালে বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল HFFC-র সঙ্গে সংযুক্তিকরণ। যা ব্যাঙ্কটিকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক গোষ্ঠীতে পরিণত করে। তবে, এই সংযুক্তিকরণের সুফল এখনও পাওয়া যায়নি।

অতনু চক্রবর্তী কে: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, অতনু চক্রবর্তী হলেন ১৯৮৫ ব্যাচের গুজরাট ক্যাডারের একজন IAS আধিকারিক। তিনি ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্রকে অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২০ সালের এপ্রিলে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও, তিনি বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এনআইটি কুরুক্ষেত্র থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিএফএআই হায়দরাবাদ থেকে বিজনেস ফাইন্যান্সে ডিপ্লোমা এবং UK-র হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন।
আরও পড়ুন: IPL ২০২৬-এর আগেই ‘বিরাট ঘোষণা’ কোহলির! প্রতিপক্ষ দলগুলিকে সতর্ক করে জানালেন…
কী পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যাঙ্ক: এদিকে, অতনুর পদত্যাগের পর, HDFC ব্যাঙ্ক দ্রুত কেকি মিস্ত্রিকে অন্তর্বর্তীকালীন পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেছে। যেটি RBI-ও অনুমোদন করেছে। এদিকে, দায়িত্বগ্রহণের পর কেকি মিস্ত্রি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ব্যাঙ্কের মধ্যে কোনও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা অভ্যন্তরীণ সংঘাত নেই। তিনি বলেছেন যে বোর্ড মিটিংগুলিতে কখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা যায়নি। তিনি আরও জানান যে অতনু চক্রবর্তী যে বিষয়গুলির কথা উল্লেখ করেছেন, সেই সম্পর্কে বোর্ডের অন্য সদস্যরা অবগত নন।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা সামনে আনল বামফ্রন্ট! ভবানীপুর-নন্দীগ্রামে কারা করবেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা?
মিস্ত্রির মতে, ব্যাঙ্কের টিম ঐক্যবদ্ধ এবং তাঁরা একসঙ্গে কাজ করে যাবেন। এর পাশাপাশি তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে ব্যাঙ্কের পরিচালনা ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং কোনও বড় সঙ্কট নেই। কেকি মিস্ত্রি জানিয়েছেন যে, এই পদত্যাগ ব্যাঙ্কের ব্যবসা বা মুনাফার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। তবে, সামগ্রিকভাবে, HDFC ব্যাঙ্কের শেয়ারের তীব্র দরপতন বাজারকে অবাক করেছে। কিন্তু ব্যাঙ্কটির ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এমতাবস্থায়, বিনিয়োগকারীরা এখন ব্যাঙ্কটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছেন।












