ফেজ টুপি পড়লেও হেলমেট বাধ্যতামূলক! বাইক আরোহীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা স্বাস্থ্য মন্ত্রীর

Published on:

Published on:

Health Minister's stern message to bikers
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পথে নিরাপত্তার নিয়ম না মানার প্রবণতা যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা ফের মনে করিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান। রাজ্যে প্রতি বছর মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় পথ দুর্ঘটনা। গড় হিসাব বলছে, প্রতিদিন প্রায় ১৮ জন প্রাণ হারান সড়ক দুর্ঘটনায়। এমন পরিস্থিতিতে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর বার্তা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Health Minister)।

পথ নিরাপত্তায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর (Health Minister)

এদিন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে দুচাকার গাড়িতে নিরাপত্তা বিধি না মানার একাধিক ঘটনা। বিশেষ করে হেলমেট ব্যবহারে অনীহা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এখনও অনেকে মাথায় হেলমেট পরতে চান না।” ধর্মীয় টুপি পরা ব্যক্তিদের নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। ধর্মীয় রীতি পালনে কোনও বাধা নেই, তবে মোটরবাইক চালানোর সময় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্কসার্কাস ও মেটিয়াবুরুজের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা ধর্মীয় টুপি পরছেন মাথায়, তাঁদেরকেও বলছি, ওটা প্রাণ বাঁচাবে না। ধর্মীয় টুপি পরুন, তার উপর হেলমেট পরুন। রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্কসার্কাস মেটিয়াবুরুজে যাঁরা থাকেন তাঁরা গর্বের সঙ্গে ধর্ম পালন করুন। কিন্তু মোটর সাইকেল চালানোর সময় ফেজ টুপির উপর হেলমেট পরতেই হবে।”

একই সঙ্গে দুচাকার গাড়িতে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী ওঠার প্রবণতা নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শিশুদের নিয়ে বাইকে চলাচলের সময়ও অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “অনেক সময় দেখি দু’চাকার মোটর সাইকেলে মা-বাবার ফাঁকে একটা ছোট বাচ্চা। অভিভাবকরা হেলমেট পরেছেন। বাচ্চার মাথায় হেলমেট নেই। এটা অনৈতিক। যতেই ধরে থাকুন, সামান‌্য একটা ধাক্কায় বাচ্চা হাত ফসকে পড়ে যেতে পারে। দরকার হলে তিনজন বাইকে না উঠে একটা দিন গণ-পরিবহণ বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব‌্যবহার করুন। তিনজন মিলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটর সাইকেলে উঠবেন না।”

চারচাকার গাড়িতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একইভাবে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামনের আসনে বসা ব্যক্তির পাশাপাশি পিছনের যাত্রীদেরও সিট বেল্ট পরার কথা বলেছেন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “গাড়িতে উঠে সিট বেল্ট বাঁধুন। শুধু সামনের আসনের যাত্রী নন। পিছনের আসনে যিনি বসছেন তিনিও সিট বেল্ট বাঁধুন। প্রাণ সবার আগে।”

Health Minister's stern message to bikers

আরও পড়ুন :১৮ হাজারেই গোয়া! IRCTC-র প্যাকেজে বিমান-হোটেল-খাবার, জানুন পুরো খরচ

দুর্ঘটনা এড়াতে তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ব্যক্তিগত সতর্কতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাইকে হেলমেট, গাড়িতে সিট বেল্ট এবং দু’চাকার যানে অতিরিক্ত যাত্রী না তোলার মতো মৌলিক নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে এই অভ্যাস তৈরি হলেই পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর লড়াই আরও কার্যকর হতে পারে।