বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সবচেয়ে বেশি নজর পড়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রের উপর। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সংকট এবং দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল গোটা ব্যবস্থা। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার রূপরেখা তুলে ধরলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Higher Education Minister)।
কী বললেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Higher Education Minister)?
টিভি৯ বাংলা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, বিগত কয়েক বছরে শিক্ষাক্ষেত্রের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “শিক্ষা ব্যবস্থার যে পরিস্থিতি গত ১৫ বছরে তৈরি হয়েছে তা থেকে আবার ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাব। কাজে গতি আনার চেষ্টা করব।” মন্ত্রী দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দফতরের নথি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখে একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর অভিযোগ, আগের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে এমন কিছু অনিয়ম শিকড় গেড়ে বসেছিল, যা সাধারণ মানুষের অগোচরেই থেকে গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “ভিতরে ঢুকে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ চিত্র। আগের সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্ক্যাম। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, সিবিআইয়ের চার্জশিট সব হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের যে কর্মচারিদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ সহ সিবিআই চার্জশিট দিয়েছে তাঁরা এখনও কমিশনে কর্মরত। কেউ জানতো না। আমাদের গোচরে আজ এসেছে। আমরা অ্যাকশন নেওয়ার কথা বলেছি। এইভাবেই আগের সরকারটা চলতো।”
শিক্ষাক্ষেত্রে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান, যোগ্যতা ও মেধাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ধরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঘুষমুক্ত চাকরির সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নিয়োগ আমরা করব। নিয়মিত নিয়োগ করা হবে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য় যা করার দরকার তা করা হবে। আমারা যদি ক্রুটি মুক্ত নিয়োগ না করতে পারি তাহলে কিসের সরকার চালাচ্ছি আমরা? ৫ বছর পর মানুষ কেন আমাদের ভোট দেবে?”

আরও পড়ুন : ‘সেনাবাহিনী মেয়েদের জন্য নয়’, সমালোচনা উপেক্ষা করে গ্রামের প্রথম মহিলা সেনা অফিসার হয়ে নজির সুনাইনার
তবে সংস্কারের পথে বাধা যে এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের কিছু চেষ্টা এখনও চলছে বলে অভিযোগ তাঁর। সেই কারণেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, “এই বাজারেও কিছু ঘুঘু চেষ্টা করছে নিজের লোক ঢুকিয়ে দেওয়ার। আমাদের নীতি প্রথমে বিনির্মাণ তারপর পুনর্নিমাণ। চোরদের রেখে দিয়েছে কখনও অবস্থার বদল করা যাবে না। দুর্নীতিতে আমাদের জিরো টলারেন্স।” নতুন সরকারের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিয়মের প্রভাবমুক্ত করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার দিকেই তাকিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহল।













